কার্তিক হত্যা মামলা: তিন আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

ফরিদপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক কিশোরীকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ের পর মেয়ের পিতা কার্তিক সিকদারকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামিকে দুই সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এই আসামিরা হলেন— ইমারত মোল্লা, কালাম মোল্লা ও সিদ্দিক মোল্লা।

মঙ্গলবার (২৫ মে) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ফরিদপুরের নগরকান্দার চর যশোরদী ইউনিয়নের যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজ মোল্লা মেঘারকান্দি গ্রামের কার্তিক সিকদারের নাবালিকা মেয়ে চঞ্চলাকে অপহরণ ও জোর করে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ১ জুন রাতে সিরাজ মোল্লা ও তার সহযোগীরা কার্তিক সিকদারকে ধরে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে ফেলে রেখে যায়। আহত কার্তিককে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতেও বাধা দেওয়া হয়। পরদিন ২ জুন হাসপাতালে নেওয়ার পথে কার্তিক সিকদার মারা যান। এরপর তার মরদেহ পোড়াতে না দিয়ে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়।

ওই ঘটনায় ২০০৭ সালের ১৩ মার্চ নিহত কার্তিক সিকদারের স্ত্রী মিলনী সিকদার আদালতে সিরাজ মোল্লা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলায় নিম্ন আদালত ২০১৯ সালের ২২ জুলাই সিরাজ মোল্লাসহ ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে রায় দেন। রায়ের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়। এ অবস্থায় ইমারত মোল্লা, কালাম মোল্লা ও সিদ্দিক মোল্লা হাইকোর্টে জামিন আবেদন করলে গত ১০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট তাদের জামিন দেন। এরপর তারা কারাগার থেকে মুক্তি পান। এ অবস্থায় তাদের জামিন স্থগিত ও গ্রেফতারের নির্দেশনা চেয়ে আপিল আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।