ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে ১৪০৭ হাজতির জামিন

করোনা সংক্রমণ রোধকল্পে চলমান লকডাউনে সারাদেশে অধস্তন আদালতসমূহে ৩১৯০টি আবেদনের ভার্চুয়াল শুনানি ও নিষ্পত্তি করে ১৪০৭ জন আসামিকে জামিন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সর্বমোট ৩০ কার্যদিবসে ৯৪ হাজার ৮৪০টি মামলায় ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে মোট ৪৯ হাজার ৯০৫ জন হাজতি জামিনপ্রাপ্ত হয়ে কারামুক্ত হয়েছে।

শনিবার (২৯ মে) সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মুহাম্মদ সাইফুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

জানা গেছে, ‘করোনা সংক্রমণ রোধকল্পে দ্বিতীয় দফায় সারাদেশে অধস্তন আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে শারীরিক উপস্থিতি ব্যতিরেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে জামিন এবং অতীব জরুরি ফৌজদারি দরখাস্তের ওপর শুনানি হয়েছে। গত ২৭ মে সারাদেশের অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে ভার্চুয়াল শুনানিতে ৩১৯০টি জামিন-দরখাস্ত নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং ১৪০৭ জন হাজতি অভিযুক্ত আসামিকে জামিন দেওয়া হয়েছে।’

এর আগে দ্বিতীয় দফায় ভার্চুয়াল আদালতের প্রথম কার্যদিবসে সারাদেশে অধস্তন আদালতসমূহে ১৬০৪ জন, দ্বিতীয় দিনে ৩২৪০ জন, তৃতীয় দিনে ২৩৬০ জন, চতুর্থ দিনে ১৮৪২ জন, পঞ্চম দিনে ১৬৩৫ জন, ষষ্ঠ দিনে ১৫৭৬ জন, সপ্তম দিনে ১৩৪৯ জন, অষ্টম দিনে ১৫৯২ জন, নবম দিনে ১৮৩৯ জন, দশম দিনে ১৫৯৩ জন, এগারতম দিনে ১৩৯৫ জন, বারোতম দিনে ১৪২২ জন, তেরতম দিনে ১৪১২ জন, চৌদ্দতম দিনে ১৭২১ জন, পনেরতম দিনে ১৭১৪ জন, ষোলতম দিনে ১৫৩৬ জন, সতেরোতম দিনে ১৪৪৭ জন, আঠারোতম দিনে ১৯১৭ জন, উনিশতম দিনে ২৬৪২ জন, বিশতম দিনে ৩১৫০ জন, একুশতম দিনে ২৪১৮ জন, বাইশতম দিনে ৫৮৬ জন, তেইশতম দিনে ৮৪৭ জন, চব্বিশতম দিনে ৯৯৮ জন, পঁচিশতম দিনে ৯৭৮ জন, ছাব্বিশতম দিনে ১২৫৩ জন, সাতাশতম দিনে ১৭২২ জন, আঠাশতম দিনে ১৩৯৯ জন এবং উনত্রিশতম দিনে ১২৯৭ জন হাজতি আসামিকে জামিন দেওয়া হয়।

আর সবমিলিয়ে সর্বমোট ৩০ কার্যদিবসে ৯৪ হাজার ৮৪০টি মামলায় ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে মোট ৪৯ হাজার ৯০৫ জন হাজতি কারামুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এসময়ে জামিনপ্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা ৬৯২ জন।

তবে ভার্চুয়াল আদালত শুরু হওয়ার পর প্রথম দফায় ২০২০ সালের ১১ মে থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৫৮ কার্যদিবসে সারাদেশে অধস্তন আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে ভার্চুয়াল শুনানিতে মোট ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৯টি ফৌজদারি মামলায় জামিন-দরখাস্ত নিষ্পত্তি হয় এবং ৭২ হাজার ২২৯ জন অভিযুক্ত ব্যক্তির (শিশুসহ) জামিন মঞ্জুর করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ১১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রাদুর্ভূত মহামারি (কোভিড-১৯) এর ব্যাপক বিস্তার রোধকল্পে ১২ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে জামিন ও অতীব জরুরি ফৌজদারি দরখাস্তসমূহ নিষ্পত্তি করার উদ্দেশ্যে আদালত ও ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

এ ছাড়াও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় প্রত্যেক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক শারীরিক উপস্থিতিতে দায়িত্বপালন করবেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিলো।