সহকর্মীদের স্মৃতিচারণে প্রসিকিউটর মালুম

শেষবারের মতো নিজের কর্মস্থলে জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুমের মরদেহ ফেরার পর দুঃখ-ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা। 

রবিবার (২৭ জুন) দুপুর ১২টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে তার প্রথম নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়। এরপর বাংলা ট্রিবিউনের কাছে তার সহকর্মীরা স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য তুলে ধরেন। 

চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু বলেন, ট্রাইব্যুনালের শুরু থেকেই আমরা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছি। একজন প্রাণবন্ত মানুষকে হারিয়েছে আমরা। সামগ্রিকভাবে আমরা শোকাহত, আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।

প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন বলেন, তার মতো ভালো মানুষ আমি আর দেখিনি।

প্রসিকিউটর রাজিয়া সুলতানা বলেন, তিনি শুধুই একজন অ্যাডভোকেট নন। তাকে বাবা হিসেবেই জানতাম। ঝড়-বৃষ্টিতেও নিরলস কাজ করে গেছেন। সবসময় ট্রায়ালে হাজির ছিলেন।

প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন মুন্নি বলেন, ট্রাইব্যুনালে আমাদের কাজ ত্বরান্বিত করেছেন তিনি। নিরলস পরিশ্রম করেছেন সবসময়। তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, তিনি যেন জান্নাতবাসী হন।

প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল বলেন, ট্রাইব্যুনাল গঠনের শুরু থেকেই আমরা কাজ করে আসছিলাম। চিফ প্রসিকিউটরের নেতৃত্বে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আমাদের কাজ করতে হয়েছে। শুরুর দিকে ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনার মতো অবস্থা ছিলো না, তখন সব ষড়যন্ত্র ঠেলে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলে ট্রাইব্যুনালকে এগিয়ে নিয়েছিলাম। রাত-দিন ভুলে আমরা কাজ করেছি। আমি মনে করি ট্রাইব্যুনালের এই অগ্রগতিতে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আসামিদের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী মো. শাহিন ইসলাম বলেন, তিনি সিনিয়র অ্যাডভোকেট ছিলেন। একসাথে কাজ করেছি। তার কাছ থেকে শিখেছি। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর (আইসিটি) বীর মুক্তিযোদ্ধা জেয়াদ আল মালুম শনিবার (২৬ জুন) দিবাগত রাতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম আর নেই