এক মানিকের বদলে আরেক মানিক কারাগারে, মুক্তির নির্দেশ

মাদক মামলায় নামের মিল থাকায় চার মাস ধরে কারাবন্দী মানিক হাওলাদারকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এ মামলার প্রকৃত আসামি মো. মানিককে মিয়াকে আত্মসমর্পনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি মামলার দুই তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি নিতে শরিয়তপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৮ জুন) বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে মানিক হাওলাদারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী পার্থ সারথী রায়। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে একটি গাড়িতে ৬৬৮ বোতল ফেনসিডিল পাওয়ার অভিযোগে ওই বছরের ২ জুন সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। আসামি মো. মানিক মিয়াকে ২০০৯ সালের ৩ জুন গ্রেফতার করে পুলিশ। কিছু দিন কারাভোগের পর একই বছর হাইকোর্ট থেকে জামিন পান তিনি। মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলা আদালত চার আসামির চার বছরের কারাদণ্ড দেন। 

মানিক হাওলাদারের পরিবারের অভিযোগ, চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি সাজাপ্রাপ্ত মো. মানিক মিয়ার স্থলে শুধু নামের মিল থাকার কারণে মানিক হাওলাদারকে শরীয়তপুর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে মানিক হাওলাদার কারাভোগ করছিলেন।

পরে মানিক হাওলাদারের মুক্তি চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।

রুটের শুনানি নিয়ে গত ৭ মার্চ মাদক মামলায় এক মানিকের স্থলে অন্য মানিক জেল খাটছেন-এমন অভিযোগে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। শরিয়তপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্ত করে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।

এছাড়াও মানিকের আটকাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

শরিয়তপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রকৃত অপরাধী মানিক মিয়াকে চিহ্নিত করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেন আদালত।