মানবপাচারের ও বেআইনিভাবে পাসপোর্ট রাখার অভিযোগে দক্ষিণ খান থানায় করা দুই মামলায় তুহিন সিদ্দিকী অমির পৃথক দুই মামলায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (৩০ জুন) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামি অমিকে আদালতে হাজির করে দুই মামলায় ১০ দিন করে মোট ২০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে মানবপাচার মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈনুল ইসলামের আদালত দুইদিন ও পাসপোর্টের মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান মো. নোমানের আদালত তার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গতকাল ২৯ জুন পরীমণিকে হত্যা ও ধর্ষণের চেষ্টার মামলায় অমির জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
গত বুধবার (২৩ জুন) মানবপাচারের ও বেআইনিভাবে পাসপোর্ট রাখার অভিযোগে দক্ষিণ খান থানায় করা দুই মামলায় তুহিন সিদ্দিকী অমির গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর রিমান্ড শুনানির জন্য আজকের দিন ৩০ জুন ধার্য করেন।
এর আগে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে অমির ৮ সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ৩৯৫টি পাসপোর্ট, অমির চারটি বিলাসবহুল গাড়ি, ২২টি হার্ড ডিস্ক, সম্পত্তির দলিল, ক্রেডিট কার্ড, অলিখিত স্ট্যাম্প, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, ভিসা কার্ড, পেনড্রাইভ ও মোবাইল সেট জব্দ করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) রাজধানীর দক্ষিণ খান থানায় অমির বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে মামলা করে এক ভুক্তভোগী। মামলায় অমি ছাড়া আরও পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও পাঁচ-সাতজনকে।
উল্লেখ্য, অমি ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন দেশে মানবপাচার করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করে আসছে। তারা স্বল্প সময়ের মধ্যে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পত্তির মালিক হয়েছে।
অন্যদিকে দক্ষিণখান থানাধীন আশকোনা হাজি ক্যাম্প সংলগ্ন সিঙ্গাপুর ট্রেনিং সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে তুহিন সিদ্দিকী অমির। মঙ্গলবার (১৫ জুন) রাতে ঢাকা জেলা পুলিশ এসে দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে অমির দুই সহযোগী বাছির ও মশিউরকে আটক করে। আটকের পর ঢাকা জেলা পুলিশ বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলাটি পাসপোর্ট অ্যাক্টে করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে ১০২টি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।