চলমান লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অযৌক্তিক কারণে বাইরে বের হওয়ায় ৩২০ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। শুক্রবার (২ জুলাই) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডিএমপির আটটি ক্রাইম ও ট্রাফিক বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল কোর্ট চালিয়ে ২০৮ জনকে বিভিন্ন পরিমাণ অর্থ জরিমানা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে ২১৯টি মামলা দায়ের করে মোট ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) ইফতেখারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে লকডাউনের প্রথম দিন গত বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করায় ৫৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া প্রথম দিনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২১২ জনকে বিভিন্ন পরিমাণ অর্থ জরিমানা ও ৩৯১ জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। লকডাউনের প্রথম দিনে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ২৭৪টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০ টাকা জরিমানার পাশাপাশি ৭৭টি গাড়িকে রেকারিং করা হয়েছিল।
পুলিশ কর্মকর্তা ইফতেখায়রুল ইসলাম জানান, লকডাউনের প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের চেকপোস্ট ও টহল ছিল। যৌক্তিক কারণ ছাড়া যারা ঘরের বাইরে বের হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে। যারা বাইরে বের হওয়ার যৌক্তিক কারণ বলতে পেরেছেন তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণের জন্য নগরবাসীকে আরও সচেতন হতে হবে। অকারণে ঘর থেকে বের হয়ে করোনাভাইরাস নিজের ঘরে বহন করে নিজেরাই ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করার চেষ্টাও করছে।
লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রথম দিনের কড়াকড়ির কারণে দ্বিতীয় দিনে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা ছিল অনেক কম। এছাড়া দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় লোকজন ঘরবন্দি ছিল। এরপরও বিভিন্ন এলাকার বাজার ও অলিগলিতে মানুষের জটলা এবং স্বাস্থ্যবিধি না মেনে আড্ডা দিতে দেখা গেছে। অনেক এলাকায় পুলিশের টহল দেখে মানুষের দৌড়ে ঘরে ঢোকা এবং পুলিশ চলে গেলে বের হয়ে আসতেও দেখা গেছে।
ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিনে রাস্তাঘাটে লোকজন কিছুটা কম ছিল। এরপরও অনেকেই অকারণে বের হয়ে মিথ্যা অজুহাত বা এয়ারপোর্টে লোক আনতে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করেছে। চেকপোস্ট থেকে এসব যাচাই করে ৩৬ জনকে জনের বিরুদ্ধে ডিএমপি অ্যাক্ট ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা চেকপোস্ট ও টহলের পাশাপাশি এলাকায় অনেক মাস্ক বিতরণ করেছি। আগামীকাল (৩ জুলাই) থেকে মাস্ক ছাড়া কেউ বের হলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যৌক্তিক কারণে বের হলেও মাস্ক অবশ্যই পরতে হবে।’
এদিকে র্যাব সদর দফতর জানিয়েছে, চলমান লকডাউনে বিধিনিষেধ কার্যকর ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে সারাদেশে মাঠে ছিল র্যাব। লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে সারাদেশে র্যাবের ১৬৬টি টহল এবং ১৪৫টি চেকপোস্ট বসানো হয়। এছাড়া র্যাব সারাদেশে ৫৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। এসব ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২১৩ জনকে ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৪০ টাকা জরিমানা করা হয়।
র্যাবের পরিচালক (মিডিয়া) কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, চেকপোস্ট ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের পাশাপাশি র্যাবের পক্ষ থেকে বিনা প্রয়োজনে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও বিনামূল্যে মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ১শ’ দুস্থ পরিবারকে র্যাবের পক্ষ থেকে খাদ্য দেওয়া হয়েছে।