গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ঘটনায় গৃহকর্তার স্ত্রী রিমান্ডে

রাজধানীর ভাটারায় কিশোরী গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে ভাটারা থানায় দায়ের করা মামলায়  গৃহকর্তা আসাদুর রহমান আরিফের  স্ত্রী মাহফুজা রহমানের দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রবিবার (৪ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর রহমানের আদালত রিমান্ডের  এই আদেশ দেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন (জিআর) শাখা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে আদালতে হাজির করে তার ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত শুক্রবার (২ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলামের আদালত গৃহকর্তা আসাদুর রহমান আরিফের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।

পুলিশ জানায়, গত ১ জুলাই গৃহকর্মী কুলসুম আক্তারকে নির্যাতনের অভিযোগে তার বোন ফাতেমা বেগম ভাটারা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা আসাদুর রহমান আরিফ এবং তার স্ত্রী মাহফুজা রহমানকে এই মামলায় আসামি করা হয়।

পরে ওইদিন রাতেই ভাটারা থানার জোয়ার সাহারার এল এম টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাট থেকে গৃহকর্তা আসাদুর রহমান আরিফকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর শুক্রবার (২ জুলাই) রাতে ভাটারা থেকে মাহফুজা রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর ভাটারার এলাকা আসাদুর রহমানের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন কুলসুম আক্তার। কাজে সামান্য ভুল হলেই কুলসুমকে লাঠি দিয়ে মারধর, প্লাস দিয়ে মাথার চুল টানা, গায়ের ওপর গরম পানি ঢেলে দেওয়া, গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়াসহ নানা ধরনের নির্যাতন করতেন আসাদুর রহমানের স্ত্রী মাহফুজা।

সর্বশেষ ১৫ জুন ঘর পরিষ্কার করতে দেরি হওয়ায় কুলসুমকে বেধড়ক মারধর করেন আসাদুর ও মাহফুজা। এমনকি গরম পানি দিয়ে তার শরীর ঝলসে দেওয়া হয় এবং চুলায় রড গরম করে তার পায়ে চেপে ধরা হয়। এছাড়া, কুলসুমের মুখ, হাত, পা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন আছে। পরে অসুস্থতার কথা বলে ৩০ জুন কুলসুমকে তার বড় বোন ফাতেমা আক্তারের বাসায় রেখে যান মাহফুজা। কুলসুমকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন ফাতেমা।

ভাটারা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রফিকুল হক বলেন, ‘গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ আসাদুর রহমানের জোয়ার সাহারার বাসায় কাজ করতো ভিকটিম কুলসুমা আক্তার। গত বছরের ১২ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ওই বাসার গৃহকর্মী ভিকটিমকে জ্বলন্ত আগুনে লোহার খুন্তি ও রড গরম করে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছ্যাঁকা দিয়ে ও মারধর করে গুরুতর আহত করেন অভিযুক্তরা। এতে অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ৩০ জুন সন্ধ্যায় ভিকটিমকে তার বোনের বাসায় পাঠিয়ে দেন বাসার মালিক। পরবর্তীতে থানায় অভিযোগ করা হলে, বিষয়টি আমলে নিয়ে ভাটারা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে নির্যাতনকারী গৃহকর্তাকে মালিককে গ্রেফতার করা হয়। ভাটারা থানায় এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।