রাজধানীর ভাটারায় কিশোরী গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে ভাটারা থানায় দায়ের করা মামলায় গৃহকর্তা আসাদুর রহমান আরিফের স্ত্রী মাহফুজা রহমানকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (৭ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ-উর-রহমানের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন (জিআর) শাখা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামি মাহফুজাকে ২ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করেন। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তিনি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে রবিবার (৪ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর রহমানের আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ২ জুলাই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলামের আদালত গৃহকর্তা আসাদুর রহমান আরিফের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। বর্তমানে গৃহকর্তা আসাদুর রহমান রিমান্ড শেষে কারাগারে রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গত ১ জুলাই গৃহকর্মী কুলসুম আক্তারকে নির্যাতনের অভিযোগে তার বোন ফাতেমা বেগম ভাটারা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা আসাদুর রহমান আরিফ এবং তার স্ত্রী মাহফুজা রহমানকে এই মামলায় আসামি করা হয়।
পরে ওই দিন রাতেই ভাটারা থানার জোয়ার সাহারার এল এম টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাট থেকে গৃহকর্তা আসাদুর রহমান আরিফকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর শুক্রবার (২ জুলাই) রাতে ভাটারা থেকে মাহফুজা রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর ভাটারা এলাকার আসাদুর রহমানের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন কুলসুম আক্তার। কাজে সামান্য ভুল হলেই কুলসুমকে লাঠি দিয়ে মারধর, প্লাস দিয়ে মাথার চুল টানা, গায়ে গরম পানি ঢেলে দেওয়া, গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়াসহ নানা ধরনের নির্যাতন করতেন আসাদুর রহমানের স্ত্রী মাহফুজা।
সর্বশেষ ১৫ জুন ঘর পরিষ্কার করতে দেরি হওয়ায় কুলসুমকে বেধড়ক মারধর করেন আসাদুর ও মাহফুজা। এমনকি গরম পানি দিয়ে তার শরীর ঝলসে দেওয়া হয় এবং চুলায় রড গরম করে তার পায়ে চেপে ধরা হয়। এছাড়া, কুলসুমের মুখ, হাত, পা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন আছে। পরে অসুস্থতার কথা বলে ৩০ জুন কুলসুমকে তার বড় বোন ফাতেমা আক্তারের বাসায় রেখে যান মাহফুজা। পরে কুলসুমকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন ফাতেমা।