স্বাস্থ্য সচিবসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন সংক্রান্ত আদালতের রায় অমান্য করায় সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের প্রতি আদালত অবমাননার অভিযোগে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে তাদেরকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। 

বিবাদীরা হলেন— স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ, ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক বাবলু কুমার শাহা, ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান এবং ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসের  ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএফএম  আনোয়ারুল হক।

এক আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার (১১ আগস্ট) বিচারপতি মামনুন রহমান এবং বিচারপতি খোন্দকার দিলুরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারির আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।

শুনানিকালে মনজিল মোরসেদ আদালতকে বলেন, ‘অ্যান্টিবায়োটিক একটি জীবন রক্ষাকারী মেডিসিন। সে কারণেই আদালত এরকম রায় দিয়েছেন। কিন্তু আদালতের নির্দেশ অমান্য করে উৎপাদন চালিয়ে বাজারে বিক্রির মাধ্যমে অনেক মানুষের ক্ষতি করছে ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউাটক্যালস। কিন্ত ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা অন্যরা কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। কোম্পানির বিক্রয় ডকুমেন্ট হতেও প্রমাণ পাওয়া যায় যে, তারা অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন করছে। এর ফলে তারা আদালতের ওপর অশ্রদ্ধা দেখিয়েছেন এবং আদালত অবমাননা করেছেন, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’

প্রসঙ্গত, এর আগে জিএমপি অনুসরণ না করে বরিশালের ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস-সহ ২০টি মেডিসিন কোম্পানি অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন করায় তা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হয়। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) এর পক্ষে করা ওই রিটের শুনানি শেষে কোম্পানিগুলোকে অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সেই নির্দেশনা অনুসারে, ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট কর্তৃপক্ষ ইন্দো বাংলা-সহ ২০টি প্রতিষ্ঠানের অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে মামলার রুল শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আদালত আংশিক রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেন এবং ৫ সদস্য বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ওই কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে জিএমপি অনুসরণের সক্ষমতা অর্জনের পর অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদনের অনুমতি প্রদানের জন্য নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ওই রায়ে বিবাদীদেরকে প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করার জন্য বলা হয়েছে, যাতে তারা জিএমপি অনুসরণ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন করতে না পারে।

অথচ ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আদালতের দেওয়া রায়ের নির্দেশনা অমান্য করে বরিশালের ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস অবৈধভাবে অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন ও বিক্রি করছে বলে সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে অ্যাডভোকেট রিপন বাড়ৈ সেসব প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপনের মাধ্যমে বিবাদীদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়েরের আবেদন করেন।  সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে রুল জারি করলেন হাইকোর্ট।