চিকিৎসার অধিকার নিশ্চিতে পৃথক মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ হাইকোর্টের

দেশের নাগরিকদের সাংবিধানিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনসহ চারটি পরামর্শ দিয়েছেন হাইকোর্ট। হোমিও ও ইউনানি পড়ে কেউ ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করতে পারবে না—আদেশ দিয়ে শনিবার (১৪ আগস্ট) বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর ৭১ পৃষ্ঠার রায়টি প্রকাশিত হয়। বাংলায় প্রকাশিত রায়টিতে নিজেদের পরামর্শ তুলে ধরেন হাইকোর্ট।

মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেন, যেহেতু সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২ মোতাবেক চিকিৎসা পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার, সেহেতু আমরা, নিম্নবর্ণিত পরামর্শসমূহ প্রদান করলাম।

(১) “সবার জন্য স্বাস্থ্য” নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে “কাজাখস্তান ঘোষণা” থেকে “আলমাআটা ঘোষণা” বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সার্বিক পরিকল্পনা, নীতিমালা এবং প্রয়োজনীয় আইন দ্রুত প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে পরামর্শ দেওয়া হলো।

(২) সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় তথা প্রচলিত এবং বিকল্প ধারার চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় “রোগী কেন্দ্রিক চিকিৎসা সেবা” নীতিমালা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হলো।

(৩) প্রয়োজনে বিকল্প ধারার চিকিৎসা পদ্ধতির পৃথক মন্ত্রণালয় তথা “মিনিস্ট্রি অব আয়ুশ গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া” এর আদলে বাংলাদেশের একটি পৃথক মন্ত্রণালয় সৃষ্টির পরামর্শ দেওয়া হলো।

(৪) বিকল্প ধারার চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কিত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সেবার মান নির্ধারণ ও উন্নয়ন এবং বিকল্প ধারার চিকিৎসা শাস্ত্র সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তৎপ্রদত্ত ডিগ্রিসমূহকে স্বীকৃতি প্রদান করার পদ্ধতি নির্ধারণ করার পরামর্শ দেওয়া হলো।

প্রসঙ্গত, এর আগে হোমিওপ্যাথিক ও ইউনানি চিকিৎসা শাস্ত্রে ডিগ্রিধারীরা নামের পূর্বে ডাক্তার ব্যবহারের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছিলেন। সেই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছিলেন আদালত। এরপর ওই রুলের ওপর শুনানি হয়। 

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম ও অ্যাডভোকেট খোন্দকার নীলিমা ইয়াসমিন। অপরপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম।

শুনানি শেষে হোমিওপ্যাথিক ও ইউনানি চিকিৎসা শাস্ত্রে ডিগ্রিধারীরা নামের পূর্বে ডাক্তার লিখতে পারবেন না—এমন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে হাইকোর্ট রায় দেন। সে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি স্বাক্ষরের পর প্রকাশ করলেন হাইকোর্ট।