নব্য জেএমবির বোমা বিশারদ জাহিদসহ তিনজন কারাগারে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জাহিদ হাসান ওরফে রাজু ওরফে ইসমাঈল হাসান ওরফে ফোরকানসহ তিনজনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। নব্য জেএমবি’র সামরিক শাখার প্রধান সে। অপর দুই আসামি হলো- সাইফুল ইসলাম মারুফ ওরফে বাসিরা ও মো. রুম্মান হোসেন ফাহাদ ওরফে আব্দুল্লাহ।

সোমবার (১৬ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ধীমান চন্দ্র মন্ডলের আদালত এই আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট থানাসূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

চারদিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের আদালতে আনা হলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক (নি.) ইলিয়াস হোসেনের ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

বুধবার (১১ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসীর আদালত প্রত্যেকের চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) রাতে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করেছিল ডিএমপির সিটিটিসি বিভাগ।

এ সময় আসামিদের কাছ থেকে বিস্ফোরক, ঢাকনাযুক্ত জিআই পাইপ, রিমোট কন্ট্রোলার, লোহার বল, তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি ট্যাব উদ্ধার করা হয়।

সিটিটিসির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত মো. জাহিদ হাসান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক করে। জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত হওয়ায় মাস্টার্স করতে পারেনি। ২০১৬ সালে অনলাইনে ‘হোয়াইট হাউজের মুফতি’ নামে আইডি খোলে। উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে নব্য জেএমবির তৎকালীন আমির মুসার হাত ধরে সংগঠনে যোগ দেয়। ওই সময়ের শীর্ষ জঙ্গিদের নজরে আসে জাহিদ। রসায়নে পরদর্শী হওয়ায় তাকে সংগঠনের সামরিক শাখার সদস্য বানানো হয়।”

তিনি আরও জানান, ‘রসায়নের ছাত্র হওয়ার সুবাদে অল্পদিনে গ্রেনেড ও বোমা তৈরিতে দক্ষ হয়ে ওঠে জাহিদ। আইইডিও (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) তৈরি করে সে। সংগঠনের অন্যদের বোমা বানানোর প্রশিক্ষণও দিতো।’

মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, ‘ডিএমপির সিটিটিসির ধারাবাহিক অভিযানে নব্য জেএমবির শীর্ষ জঙ্গিরা গ্রেফতার ও নিহত হলে সংগঠনটি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এসময় আত্মগোপনে যায় জাহিদ। নতুন আমিরের নেতৃত্বে নব্য জেএমবিকে সংগঠিত করার উদ্যোগ নেয়। তারই অংশ হিসেবে অনলাইনে আইডি খোলার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করতে শুরু করে। বিশেষ করে যারা সামরিক বিভাগে কাজ করতে আগ্রহী, তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের টাইম বোমা ও রিমোট কন্ট্রোলড বোমা বানানো শেখাতো সে। সংগঠনের কার্যক্রম বিস্তৃত করতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও একাধিক মিটিং করেছে। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন থেকে প্রশিক্ষণও নিয়েছে। কোনও একটি রাসায়নিকের কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে সেখান থেকে বিস্ফোরক তৈরির উপাদান নিয়ে আইইডি বানানোর পরিকল্পনা ছিল তার। সর্বশেষ ড্রোন-বোমা বানানোর পরিকল্পনাও করেছিল। পুলিশ বক্সে হামলার পরিকল্পনাতেও জড়িত জাহিদ।’

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গ্রেফতারকৃত অপর অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম মারুফও বোমা তৈরিতে দক্ষ। সে অনলাইনে জাহিদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। বেশ কয়েকটি বোমা হামলায় তার সম্পৃক্ততা থাকার বিষয়টি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে সে। সংগঠনের ফান্ড গঠনের জন্য ছিনতাই ও ডাকাতি করতো। এর জন্য টঙ্গীর রেলগেট এলাকায় রুম ভাড়া করে থাকতো সে।

১০ আগস্ট রাজধানীর কাফরুল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের একটি টিম। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় মামলা হয়েছে।