মিয়ানমার থেকে আসা মাদক দেশের ৬টি জেলা ঘুরে রাজধানী ঢাকায় প্রবেশ করে। এই পথে অন্তত তিনবার হাত বদল হয়। কখনও ঢাকার পার্শ্ববর্তী কোনও জেলায় এনে মজুত করা হয়। সময় সুযোগ বুঝে সেগুলো ঢাকায় পাঠানো হয় বড় কোনও কাভার্ডভ্যান, ট্রাক বা প্রাইভেট কার ভাড়া করে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় পৃথক অভিযানে আইস ও ইয়াবা কারবারিদের দুটি চক্রের ৯ জনকে গ্রেফতারের পর এমন তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ মোহাম্মদপুর ও যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ৭ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো—মো. নাজিম উদ্দিন, মো. আব্বাস উদ্দিন, মো. নাছির উদ্দিন, মোছা. শিউলি আক্তার, মোছা. কোহিনুর বেগম, সনজিত দাস ও মো. হোসেন আলী। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫০০ গ্রাম আইস (ক্রিস্টাল ম্যাথ), ৬৩ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়।
একই দিনে যাত্রাবাড়ীর শনিরআখড়ায় অপর এক অভিযানে ২৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ। গ্রেফতারকৃতরা হলো—মোছা. রাশিদা বেগম ও মোছা. মৌসুমী আক্তার।
বুধবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার এসব তথ্য জানান।
ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘উদ্ধারকৃত মাদক আইস মাদকসেবীদের কাছে ক্রিস্টাল মেথ বা ডি মেথ নামে সর্বাধিক পরিচিত। এটি একটি স্নায়ু উত্তেজক মাদক। আইস ভয়াবহ উত্তেজনাকর ও গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ একটি ব্যয়বহুল মাদক। এটি গ্রহণে ব্যবহারকারীর হরমোন উত্তেজনা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। ফলে শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয় সে।’
চক্রটি মিয়ানমার থেকে আসা মাদক প্রথমে টেকনাফে রিসিভ করে। সেখান থেকে কখনও কক্সবাজার, কখনও বান্দরবান হয়ে চট্টগ্রাম আসে। চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা। এরপর কুমিল্লা থেকে কখনও গাজীপুর, কখনও মানিকগঞ্জ হয়ে ঢাকায় প্রবেশ করে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা।
হাফিজ আক্তার বলেন, ‘গ্রেফতারকৃতরা অত্যাধুনিক মাদক আইস ও ইয়াবা ট্যাবলেট কক্সবাজার থেকে ক্রয় করে চট্টগ্রামে নিয়ে আসে। এরপর মোংলা বন্দর অভিমুখী এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বহন করা একটি বড় ট্রাকের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে মাদক কুমিল্লায় নিয়ে আসে। পরে প্রাইভেট কারে এগুলো ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। ঢাকা মহানগরের অভিজাত এলাকায় এই মাদক বিক্রি করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়েছে।’