ই-অরেঞ্জের মালিকসহ পাঁচজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় দায়ের করা মামলায় কথিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী মাসুকুর রহমানসহ পাঁচজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৮ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালত এই আদেশ দেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখা থেকে তথ্য জানা গেছে। নিষেধাজ্ঞা পাওয়া অপর আসামিরা হলেন- আমানউল্ল্যাহ, বিথী আক্তার, কাউসার আহমেদ। মামলায় এই তিনজনকেও ই-অরেঞ্জের মালিক বলে দাবি করা হয়েছে।

১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এই পাঁচ আসামির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আজ আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবুবকর সিদ্দিকের আদালতে সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী মাসুকুর রহমান আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের জন্য আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের দুজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ই-অরেঞ্জের প্রতারণার শিকার হয়েছেন দাবি করে মো. তাহেরুল ইসলাম নামের একজন গ্রাহক গত সোমবার ১৬ আগস্ট মামলাটি দায়ের করেছেন। তার সঙ্গে আদালতে উপস্থিত থেকে সাক্ষ্য দিয়েছেন আরও ৩৭ জন। তারা সবাই প্রতারণার শিকার বলে দাবি করেছেন।

মামলার এজাহারে তাহেরুল ইসলাম জানান, তিনি গত ২১ এপ্রিল পণ্য কেনার জন্য ই-অরেঞ্জে অগ্রিম টাকা দেন। তবে ই-অরেঞ্জ নির্ধারিত তারিখে পণ্য সরবরাহ করেনি। টাকাও ফেরত দেয়নি। নিজেদের ফেসবুক পেজে বার বার নোটিশ দিয়েছে, সময় চেয়েছে। কিন্তু পণ্য ও টাকা দেয়নি। সর্বশেষ তারা গুলশান-১ এর ১৩৬/১৩৭ নম্বর রোডের ৫/এ নম্বর ভবনে অবস্থিত অফিস থেকে পণ্য ডেলিভারির কথা বললেও তারা ডেলিভারি দেয়নি। এছাড়াও তারা যে বিভিন্ন আউটলেটের গিফট ভাউচার বিক্রি করেছিল, সেগুলোর টাকা আটকে রাখায় আউটলেটগুলো ভাউচারের বিপরীতে পণ্য দিচ্ছে না। আমরা এই করোনাকালীন সময় আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ পাচ্ছি না, বরং প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা পরিবর্তন নিয়ে নতুন নতুন তথ্য পাচ্ছি। এছাড়াও আজ পর্যন্ত তারা পণ্য ডেলিভারি না করে প্রায় ১ লাখ ভুক্তভোগীর প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎ করেছে।