জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়, হাইকোর্টে তদন্ত কর্মকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা

ছোট ভাইকে হত্যার ঘটনার বড় ভাই ১২ বছরের শিশুর কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায়ের ঘটনায় মামলার সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা নয়ন কুমার হাইকোর্টের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

তলবাদেশে হাজির হওয়ার পর রবিবার (২২ আগস্ট) বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একইদিন তলবাদেশে হাজির হয়েছিলেন মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা (পিবিআই) মুনসুর আলী।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

তবে আদালত তদন্ত কর্মকর্তার ক্ষমার আবেদনে সন্তোষ প্রকাশ না করায় এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৬ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণের আদেশ দেন।

এর আগে ‘পুলিশের ভুলে ১২ বছরের শিশুর ঘাড়ে ছোট ভাই হত্যার দায়’ শিরোনামে একটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদ যুক্ত করে হাইকোর্টে আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সাল থেকে ছোট ভাইকে হত্যার দায় নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে ১২ বছর বয়সী বড় ভাইকে। সে বছর ২৫ আগস্ট বগুড়ার কাটাখালি গ্রামের একটি পাটখেত থেকে উদ্ধার করা হয় মহিদুল ইসলামের ছেলে সোহাগের মরদেহ। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে পুলিশ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় বড় ভাইকে। জোর করে হত্যার স্বীকারোক্তিও নেওয়া হয়। এ মামলায় এখন বাড়ি ছাড়া পুরো পরিবার। এদিকে সন্তান হত্যা এবং আরেক শিশু সন্তানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ থেকে পেতে  দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোনও সহায়তা না পেয়ে দিশাহারা পরিবারটি।

ওই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা নয়ন কুমার ওই শিশুকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছিলেন। আর মনসুর আলী ওই শিশুকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন করে দুই আসামিকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছিলেন। পরে গত ১১ আগস্ট উভয়ের বক্তব্য শুনতে সাবেক ও বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট।