রাজধানীর কলাবাগানে জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব তনয়কে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ছয় আসামির মধ্যে চার জনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তারা নির্লিপ্ত থেকেছেন, এমনকি এক পর্যায়ে কৃতকর্মের জন্য ‘অনুতপ্ত নন’ বলেও জানিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৯টায় কাশেমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে চার আসামিকে আদালতের হাজত খানায় আনা হয়। এসময় নিরাপত্তার জন্য তাদের প্রত্যেককে পরানো হয় বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হ্যালমেট। প্রিজন ভ্যান থেকে নামানোর পর থেকে এই চার যুবককে বেশ হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়।
কারাগার থেকে আদালতে আনা আসামিরা হলেন, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন, আরাফাত রহমান, শেখ আব্দুল্লাহ ও আসাদুল্লাহ। এ মামলায় পলাতক রয়েছেন আরও চার জন। তারা হলেন- মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে জিয়া, আকরাম হোসেন, সাব্বিরুল হক চৌধুরী ও মওলানা জুনায়েদ আহম্মেদ।
ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারক মজিবুর রহমানের আদালতে বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে চার আসামিকে এজলাসে হাজির করা হয়। সেখানেও নিজেদের মধ্যে আলাপকালে হাসতে দেখা যায় তাদের। বিচারক আদালতে আসার আগে এক ফাঁকে তাদের একজন আদালতে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা দুই-তিনটা মামলায় ফাঁসির আসামি। তাও কেন আদালতের এজলাসে আমাদের হাতকড়া পরিয়ে রাখতে হবে। আমাদের কি কোনও মানবাধিকার নেই?’
তারা বলেন, হাতকড়া পেছনে না বেঁধে সামনে বাঁধা হলে তাদের জন্য একটু ভালো হয়। তারা তো আরও কয়েকটা মামলার ফাঁসির আসামি। সেক্ষেত্রে তারা ‘অন্য কিছু’ করার সুযোগও পাবেন না বলে দাবি করেন তারা।
এরপর ‘বিশেষ বিবেচনায়’ আদালতের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা পুলিশকে তাদের হাতকড়া পেছন থেকে সামনে দিকে এনে দিতে বলেন।
বেলা ১২টা ৮ মিনিটে রায় পড়া শুরু করেন বিচারক। রায়ে সাব্বিরুল হক চৌধুরী ও মওলানা জুনায়েদ আহম্মেদ খালাস পান। বাকি ছয় জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। রায় পড়ার সময়ও বেশ হাসিখুশি দেখা যায় আসামিদের। এক পর্যায়ে তাদের ‘আলহামদুলিল্লাহ’ এবং তাদের ‘কোনও অনুশোচনা নেই’ বলতেও শোনা যায়।
আদালত থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় আসামিদের চেহারা কিছুটা বিমর্ষ দেখালেও সবাই গণমাধ্যমে হাসিমুখ দেখানোর চেষ্টা করেছেন।