এবি ব্যাংকের সাবেক দুই কর্মকর্তাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এবি ব্যাংকের সাবেক দুই কর্মকর্তাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদক। চার্জশিটভুক্ত এবি ব্যাংকের সাবেক দুই কর্মকর্তা হলেন- চট্টগ্রামের পোর্ট কানেকটিং রোড শাখার ম্যানেজার ও সাবেক ইভিপি নাজিম উদ্দিন ও প্রধান কার্যালয়ের এসএভিপি ও ক্রেডিট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মনিটরিং ইনচার্জ আজাদ হোসেন। চার্জশিটভুক্ত অপর আসামি হলেন- চট্টগ্রামের মেসার্স ইয়াসির এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার মোজাহের হোসেন। 

বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল ও মহানগর দায়রা জজ আদালতে দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এই চার্জশিট দাখিল করেন। দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের মেসার্স ইয়াসির এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার মোজাহার হোসেন শাখা ব্যবস্থাপক নাজিম উদ্দিনের সুপারিশে ২০১২ সালে ৮৪ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। এই ঋণের মধ্যে ৮০ কোটি টাকা রিভলভিং ঋণ ও ৪ কোটি টাকা রিভলিং টাইন ঋণ। এছাড়া শাখা ব্যবস্থাপক নাজিম উদ্দিনের সুপারিশে মোজাহার হোসেন ২০১৩ সালের ৭ এপ্রিল এবি ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় ১৩ হাজার ৯৬৪ মেট্রিক টন ডাল আমদানির জন্য ৬২ লাখ ১৫ হাজার ১৪০ টাকা মূল্যের একটি এলসি খুলেন। ব্যাংক পুরো এলসির টাকা পরিশোধ করলেও গ্রাহক পরে তা আর পরিশোধ করেননি। একই মঞ্জুরিপত্রের আলোকে মোজাহার হোসেন ৩৪ কোটি ৯৯ লাখ ৯৬ হাজার ৬৬১ টাকার অপর একটি ইনল্যান্ড এলসি খুলেন। এই এলসির বিপরীতে ৩১ কোটি টাকার কিছু বেশি এলটিআর করে পরিশোধ করলেও বাকি টাকা গ্রাহক আত্মসাৎ করেন।

দুদক সূত্র জানায়, আসামি নাজিম উদ্দিন মেসার্স ইয়াসির এন্টারপ্রাইজের ঋণ সুবিধার প্রস্তাবের পাশাপাশি মালামাল সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত না হয়েই বৈদেশিক ব্যাংকের দায় পরিশোধ করেন। এর বিপরীতে মাত্র ১ কোটি ৮০ টাকা মূল্যমানের একটি সম্পত্তি জামানত নেন। একইসঙ্গে আমদানিকৃত খাদ্যসামগ্রী গোডাউনে মজুতের বিষয়টি তদারকি না করে গ্রাহককে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ সৃষ্টি করে দেন। অপর আসামি আজাদ হোসেনও ঋণ ও এলসি পরিশোধের ক্ষেত্রে যথাযথ তদারকি না করে পরস্পর যোগসাজশে ব্যাংকের ১৩৩ কোটি ১৮ লাখ ৯২ হাজার ৬১৭ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

দুদক সূত্র জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের হালিশহর থানায় দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-১ এর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। কমিশন মোহাম্মদ সিরাজুল হককেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। দুই বছরের মাথায় তদন্ত শেষ করে তদন্ত কর্মকর্তা তিন জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে।