২০১২ সালে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে প্রবাসী উজ্জল মিয়া হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন— আবুল কাশেম (৫০) (পলাতক), কালু (৪৮) ও আজমান (২৬)।
একইসঙ্গে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সুজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে সোমবার (১ নভেম্বর) বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মন্টু চন্দ্র ঘোষ। আসামি কাশেমের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন শাহনাজ হক। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হারুনুর রশিদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ আহমদ হিরো।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১৪ জুন বন্দর উপজেলার সোনাকান্দা বড় মসজিদ এলাকায় প্রবাসী মো. উজ্জল মিয়ার কাছ থেকে সিগারেটের আগুন ধরানোর জন্য একটি লাইটার ধার নেন সুজন। দু’দিন পর সুজনের কাছে লাইটার ফেরত চান উজ্জল। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সুজন, কালু, আজমান ও আবুল কাশেমসহ অন্য আসামিরা উজ্জলকে মারধর করেন এবং একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন।
ওই ঘটনায় উজ্জলের বাবা লুৎফর রহমান বাদী হয়ে সুজনসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে বন্দর থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
আদালত ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০১৫ সালের ৫ অক্টোবর চার জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় দেন। একইসঙ্গে আদালত তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক মিয়াজী শহীদুল আলম চৌধুরী এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— বন্দর উপজেলার সোনাকান্দা এলাকার আবুল কাশেম (৫০) ও তার ছেলে সুজন (২৪), একই এলাকার কালু (৪৮) ও তার ছেলে আজমান (২৬)। হত্যার পরিকল্পনার জড়িত থাকার দায়ে পৃথক ধারায় আসামি সুজনকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।
পরে মৃত্যৃদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে এবং অন্য আসামিরা নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। সেসব আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট সোমবার এই রায় ঘোষণা করেন।