মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক দম্পতিকে আটক করেছে র্যাব। প্রতারণা করে টাকা আত্মসাৎ করতেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গঠন করা হয় ‘কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদক লাকী আক্তারকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পায় র্যাব। কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এবং চেয়ারম্যান পদে ছিলেন জসিম উদ্দীন। সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তার স্ত্রী লাকি আক্তার। সহ-সভাপতি ছিলেন শ্বশুর মোতালেব, যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে শ্যালিকা লাভলী আক্তার, কোষাধ্যক্ষ হিসেবে তাদের নিকটাত্মীয় সাহেলা নাজনীন ও সদস্য হিসেবে ছিলেন শ্যালক কামাল।
বুধবার (৩ নভেম্বর) টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রী লাকী আক্তারকে গ্রেফতার করে র্যাব ৪। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, ২৯৭ পিস ইয়াবা, একটি মোবাইল, ৯৬ হাজার জাল টাকা এবং দুটি দামি গাড়ি।
বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) র্যাব-৪ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্য নিয়েই কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি তৈরি করা হয়। গ্রাহকদের লগ্নিকৃত অর্থ সরিয়ে জসিম উদ্দীন তার স্ত্রী ও সন্তানের নামে ঢাকা ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় ফ্ল্যাট, প্লট ও জমি কেনেন। এছাড়া কোটি টাকা দামের প্রাডো জিপ ও প্রাইভেটকারও কেনেন তিনি। ডায়গনস্টিক সেন্টার ব্যবসাতেও অর্থলগ্নি করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন জসিম।
মোজাম্মেল হক বলেন, গ্রাহকদের বিনিয়োগের টাকা উঠাতে গেলে কিংবা লভ্যাংশ চাইতে গেলে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি এবং মামলার ভয় দেখাতেন কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা। এছাড়া মারধর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে এমন অভিযোগও রয়েছে। প্রায় ৩০ হাজারের মতো গ্রাহক রয়েছেন, যারা ডিপিএস ও এফডিআরের মাধ্যমে বিনিয়োগ করেছে। যা আনুমানিক শত কোটি টাকার বেশি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারকৃত জসিম নিজেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স পাস করে বলে প্রচার করলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি মুন্সীগঞ্জে স্থানীয় একটি স্কুল থেকে এসএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন তিনি। একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে রিপ্রেজেন্টেটিভ ছিলেন। ২০০৩ সালে অল্প সময়ে অধিক মুনাফা লাভের আশায় কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এই সমিতি সমবায় অধিদফতরের নিবন্ধন পায় ২০০৬ সালে। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে পুনঃনিবন্ধিত হয় কো-অপারেটিভ সোসাইটি হিসেবে।