আওয়ামী লীগের উপকমিটির সদস্য পদ থেকে সম্প্রতি বহিষ্কৃত ‘বিতর্কিত’ নেতা হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখা থেকে তথ্য জানা গেছে।
সোমবার (৮ নভেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে হেলেনা জাহাঙ্গীরের আইনজীবী এএইচএম শফিকুল ইসলাম মোল্লা জামিন আবেদন করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেন।
এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালত গুলশান থানায় দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং পল্লবী থানার প্রতারণা মামলায় জামিনের আদেশ দেন। এর আগে ১৭ আগস্ট ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পল্লবী থানার টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় হেলেনা জাহাঙ্গীরের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। তবে গুলশান থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় জামিন না পাওয়ায় কারামুক্ত হতে পারছেন না হেলেনা জাহাঙ্গীর।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই রাত ৮টা থেকে টানা ৪ ঘণ্টা রাজধানীর গুলশান ২-এ আলোচিত-সমালোচিত এই ব্যবসায়ীর বাসায় অভিযান পরিচালনা শেষে তাকে আটক করা হয়।
এ সময় তার বাসা থেকে বিদেশি মদ, হরিণের চামড়া, ক্যাসিনো খেলার সরঞ্জাম, বিদেশি মুদ্রা, ওয়াকিটকি সেট, ড্রোন ক্যামেরা, ক্যাঙ্গারুর চামড়া এবং অনেকগুলো চাকু জব্দ করা হয়।
পরে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে চারটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। পৃথক চার মামলায় তাকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ নামে একটি সংগঠন খুলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন হেলেনা জাহাঙ্গীর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তিনি দাবি করেন, সংগঠনটির নাম এখনও সেভাবে পরিচিত না হলেও ইতোমধ্যে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ লাখ লাখ মানুষ এর সদস্য হয়েছেন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেখা গেছে। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার পর হেলেনা জাহাঙ্গীরকে সংগঠনে থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর আগে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ থেকেও তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।