ফারমার্স ব্যাংক থেকে ৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়াও তার ৭৮ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) সকাল ১১টায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালত মামলাটির ১৮২ পৃষ্ঠার এই রায় ঘোষণা করেন।
এদিন রায় ঘোষণার পর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম গণমাধ্যমকে বলেন, এস কে সিনহা দুই জন ব্যক্তিকে দিয়ে যেই দিন অ্যাকাউন্ট খোলেন তার পরেরদিন কোনও ডকুমেন্ট পর্যালোচনা না করেই ৪ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়। এই রায়ের মাধ্যমে এটাই প্রমাণ হলো— অপরাধী যতই শক্তিশালী হোন না কেন, যত বড়ই ক্ষমতাবান হোন না কেন; কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। আইনের আওতায় যদি তিনি অপরাধী প্রমাণিত হন, তাহলে তাকে সাজা গ্রহণ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘রায়ের অবজারভেশনে আদালত বলেছেন যে, প্রধান বিচারপতি থাকাকালীন তিনি যে কাজগুলো করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সব তথ্য প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে বিধায় আদালত আসামিদেরকে সাজা দিয়েছে।
তিনি যেহেতু দোষী সাব্যস্ত হলেন, তাহলে প্রধান বিচারপতি থাকাকালে তার দেওয়া বিভিন্ন মামলার রায়ের বিষয়ে এখন কী হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে আরেক আইনজীবী বলেন, তিনি যেসব রায় ঘোষণা করেছেন, সেগুলো আপিল বিভাগ বা আপিল বেঞ্চ হিসেবে করেছেন, ব্যক্তি হিসেবে করেন নাই। তাই আমি মনে করি, সেগুলোতে এর (রায়ের) কোনও প্রভাব পড়বে না।
মামলাটিতে সাবেক এই প্রধান বিচারপতি ছাড়াও আরও ১০ জন আসামি রয়েছেন। তাদের মধ্যে বিচারের মুখোমুখি হওয়া সাত আসামি আজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী) এতদিন কারাগারে ছিলেন।
এ ছাড়া ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি এ কে এম শামীমকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী), ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফারমার্স ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, রণজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায় এই ছয় আসামির প্রত্যেকের ৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আর মামলার অপর দুই আসামি টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান ও একই এলাকার বাসিন্দা নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা খালাস পেয়েছেন।
এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর একই আদালতে মামলাটির উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুনানি শেষ হয়। এরপর রায় ঘোষণার জন্য ৫ অক্টোবর তারিখ ধার্য করেন আদালত। কিন্তু এদিন বিচারক পারিবারিক কারণে ছুটিতে থাকায় মামলার রায় পিছিয়ে আগামীকাল ২১ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।এরপর ২১ অক্টোবর বিচারক রায় প্রস্তুত করতে না পারায় ৯ নভেম্বর (মঙ্গলবার) দিন নির্ধারণ করা হয়।