তদ্ন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, কখনও-কখনও মাহফুজ একেক ধরনের তথ্য দিচ্ছেন। তবে, মঙ্গলবার দিনগত গভীর রাতে মাহফুজ বেশ কিছু তথ্য দেন। সে হত্যাকাণ্ডে কখনও বলছেন একা জড়িত, কখনও বলছেন একাধিক ব্যক্তি জড়িত ছিলেন।
তদ্ন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, মামা শরিফুরের স্ত্রী লামিয়ার সঙ্গে মাহফুজের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। তবে, বিষয়টি পরিবারের লোকজন মেনে নেননি। উল্টো আরেক মামী তাসলিমা বিষয়টি তার স্বামী শফিকুল ইসলামকে জানান। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক শালিস হয়। এরপর থেকে বাসায় মাহফুজকে না আসার কথা বলেন পরিবারের লোকজন। এসব নিয়েই মূলত মাহফুজ ক্ষুব্ধ হয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটান। ঘটনার দিন তথা ১৬ জানুয়ারি সকালে বাইরে থেকে নেওয়া খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে সবাইকে অচেতন করেই হত্যা করা হয়।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, আমাদের কাছে বিভিন্ন সময়ে মাহফুজ বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিয়েছেন। এই তথ্য তার মধ্যে একটি। এসব স্বীকার করে আবার মাহফুজ নিজেকে নির্দোষও দাবি করেন। এরফলে আমরা এখনও নিশ্চিত নই প্রকৃত ঘটনা কী। তবে, আমরা আশা করছি, আজকালের মধ্যেই প্রকৃত বিষয় জানতে পারব। মামলার অনেকটাই অগ্রগতিতে রয়েছি আমরা।
এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি মাহফুজের ৭ দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা ডিবি। এছাড়া, পুলিশ ও র্যাবের একাধিক কর্মকর্তাও মাহফুজকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
এদিকে, ১৯ জানুয়ারি গ্রেফতার ১২ লাখ টাকা ঋণদাতা ঢাকার কলাবাগান এলাকার নাজমা আক্তারকে ৫দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) এম এ খায়ের জানান, পাঁচ খুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন জানান, পাঁচখুনের রহস্য উদঘাটনে আমরা অনেকদূর এগিয়েছি। আশা করি সহসাই বিস্তারিত জানাতে পারব।
প্রসঙ্গত ১৬জানুয়ারি রাতে বাবুরাইল এলাকা থেকে তাসলিমা, তার ছেলে শান্ত ও মেয়ে সুমাইয়া, ভাই মোরশেদুল ওরফে মোশারফ ও ঝা লামিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের মাথায় ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে ও কয়েকজনকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘাতকরা। রবিবার সকালে নিহত তাসলিমার স্বামী শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ভাগ্নে মাহফুজ, ঢাকার কলাবাগানের নাজমা ও শাহজাহানের নাম উল্লেখ করে তাদের সন্দেহ করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওইদিন রাতেই মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
/এমএনএইচ/আপ-এনএস/