স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর পুরনো প্রেমিক আমিরুলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান নরসিংদীর মেয়ে নিপা আক্তার ওরফে নিপা। সম্পর্কের জেরে গর্ভবতী হন তিনি। প্রেমিক চাপ দিলেও ভ্রূণ হত্যা করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। প্রেমিক আমিরুল পরিকল্পিতভাবে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মেঘনা নদীতে নৌকা ভ্রমণে নিয়ে যায় নিপাকে। হত্যা করে ভাসিয়ে দেয় মৃতদেহ। বেশ কয়েকটি সংস্থার তদন্তের পর অবশেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর তদন্তে এমনই তথ্য উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার ১৮ নভেম্বর ধানমন্ডি পিবিআই সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নরসিংদী জেলার (পিবিআই) পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মান্নান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নিপা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৮ নভেম্বর নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানা দিন চরমধুয়া দড়ি হাটি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় সুজন মিয়াকে। আসামি সুজন মিয়া ৯ নভেম্বর আদালতে হাজির হয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এ হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি আমিরুল এখনও পলাতক। আমিরুলসহ অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
পিবিআই জানায়, মামলার আসামি আমিনুল ওরফে আমিরুলের সঙ্গে ভিকটিম নিপা আক্তারের বিয়ের আগে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আমিরুল ও নিপার প্রেমের সম্পর্ক আমিরুলের বাবা মেনে নেননি। তিনি কৌশলে আমিরুলের বাবা জাহের মিয়া সঙ্গে যোগাযোগ করে নিপাকে রায়পুরা থানাধীন বাঁশগাড়িতে বিয়ে দেন। সেখানে নিপা এক বছর ঘর সংসার করার পর একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। এক সময় আমিরুল নিপার স্বামীকে তাদের অতীত প্রেমের কাহিনী জানিয়ে দেয়। এতে নিপার স্বামী তাকে তার বাবার বাড়ি রেখে আসে। পরে নিপার স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে এবং নিপার কোনও খোজ খবর নেয়নি। এই সুযোগে আমিরুল আবার নিপার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে।
পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, এক পর্যায়ে নিপা গর্ভবতী হন। আমিরুল ভ্রূণ হত্যা করতে বললে নিপা তাতে রাজি হননি। নিপা আমিনুলকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। এতে আমিরুল তার সহযোগী সুজন মিয়া, জহিরুল ইসলামসহ অন্যান্যদের নিয়ে নিপাকে মেঘনা নদীতে নিয়ে হত্যার করে লাশ নদীর চরের মাটি চাপা দেওয়ার পরিকল্পনা করে।
গত বছরের ২৪ এপ্রিল আমিরুল, সুজন মিয়া ও তাদের সহযোগীরা নিপাকে মেঘনা নদীতে নিয়ে যায়। তারা নিপাকে নিয়ে মাঝ নদীতে গিয়ে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ ও নৌকার কাঠ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। এরপর তারা মরদেহ নদীর চরে মাটি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু নদীতে জেলেরা থাকায় তারা নিপার লাশ মাটি চাপা দিতে পারেনি। তারা মৃতদেহটি মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দেয়।