ট্রাইব্যুনালে অসুস্থ হয়ে পড়ায় সাক্ষী হাসপাতালে

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন সাক্ষী লাল বিবি (৭০)। পরে তাকে জরুরিভিত্তিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ৮ রাজাকারের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের সময় মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ ঘটনা ঘটে।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর ছিলেন ঋষিকেশ সাহা। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন আব্দুস শুকুর খান ও  গাজী এমএইচ তামিম। আর গ্রেফতার হওয়া আসামি হাফিজের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান।

এর আগে ২০১৯ সালের ২৫ মার্চ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গাইবান্ধার  এই রাজাকার সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত চূড়ান্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এ মামলায় ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

মামলার মামলার আট আসামি হলেন— গোবিন্দগঞ্জের শ্রীমুখের  মোফাজ্জল হক প্রধান ওরফে মোফা (৮২), নাসিরাবাদ কলোনির মো.আব্দুল করিম (৬৩),মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন ওরফে সরফ উদ্দিন খান ওরফে সাইফ উদ্দিন (৬৪),মো. সামছুল ইসলাম খান (৬৪), হামিদপুর চিত্তিপাড়ার মো. সেকান্দার আলী (৬৬), হরিপুরের মো. আকরাম প্রধান (৬৮), পুনতাইন আগপাড়ার মো. হাফিজুর রহমান (৬৪) ও বামন হাজরার মো. আব্দুল মান্নান (৬৪)।

আসামিদের মধ্যে জামিনে আছেন— মোফাজ্জল হক প্রধান  ও মো. আব্দুল করিম। তবে আসামি শরীফ উদ্দিন, সামছুল ইসলাম ও আব্দুল মান্নান এখনও পলাতক। আর অন্য আসামিরা কারাগারেই আছেন।

মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের পঞ্চম সাক্ষী মোছা. লাল বিবি (৭০) ট্রাইব্যুনালে তার জবানবন্দি দেন। কিন্তু জেরা শুরু করার আগে অসুস্থ হয়ে মেঝেতে পড়ে যান। এ সময় তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরে প্রসিকিউটর ঋষিকেশ সাহা বলেন, ‘লাল বিবিকে ট্রাইব্যুনাল থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সিটি স্ক্যান করানো হয়েছে। চিকিৎসকরা এখন তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তাই ট্রাইব্যুনাল মামলার কার্যক্রম ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবির আদেশ দিয়েছেন।’