শুকুর আলীর মৃত্যুদণ্ডের রায় স্থগিত রাখলেন আপিল বিভাগ

২০০৪ সালে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার লালনগরে সাবিনা (১৩) নামের এক মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় শুকুর আলীর মৃত্যুদণ্ডের রায় স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

তার আইনজীবীর করা এক আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার (২৯ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী হেলাল উদ্দিন মোল্লা।

পরে আইনজীবী জানান, গত ১৮ আগস্ট শুকুর আলীকে হাইকোর্টের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখেছিলেন আপিল বিভাগ। এখনও ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়নি। অনুলিপি প্রকাশ হলে রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) সুযোগ রয়েছে। তবে এরই মধ্যে রায়টি কার্যকরে তোড়জোড় শুরু হয়। তাই রায়টি স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছি। আদালত স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।

এর আগে ২০০৪ সালের ২৫ মার্চ রাতে দৌলতপুর উপজেলার লালনগর গ্রামের আব্দুল মালেক ঝনুর মেয়ে সাবিনা (১৩) প্রতিবেশীর বাড়িতে টেলিভিশন দেখে বাড়ি ফেরার পথে আসামিরা তাকে অপহরণ করে। এরপর লালনগর ধরমগাড়ী মাঠের একটি তামাক ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করার পর সাবিনাকে তারা হত্যা করে।

পরদিন সাবিনার বাবা আব্দুল মালেক ঝনু বাদী হয়ে পাঁচ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন।

সে মামলার বিচার শেষে ২০০৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি পাঁচ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন কুষ্টিয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আকবর হোসেন।

আসামিরা হলো, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার লালনগর গ্রামের খয়ের আলীর ছেলে শুকুর আলী, আব্দুল গনির ছেলে কামু ওরফে কামরুল, পিজাব উদ্দিনের ছেলে নুরুদ্দিন সেন্টু, আবু তালেবের ছেলে আজানুর রহমান ও সিরাজুল প্রামাণিকের ছেলে মামুন হোসেন।

পরে নিয়ম অনুসারে মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য নথি (ডেথ রেফারেন্স) হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি আসামিরা আপিল করেন। এর মধ্যে কামু ওরফে কামরুল মৃত্যুবরণ করেন। পরে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এরপর আসামিরা আপিল করেন।

গত ১৮ আগস্টের রায়ে আপিল বিভাগ শুকুর আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এছাড়াও তিন আসামি নুরুদ্দিন সেন্টু, আজানুর রহমান ও মামুন হোসেনের দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন সাজা দেন আদালত।