বরিশালগামী লঞ্চের কেবিন থেকে শারমিন আক্তারের লাশ উদ্ধারের তিন দিন পর তার স্বামী মো. মাসুদ হাওলাদারকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। লঞ্চের সিসি ক্যামেরায় দেখা ব্যক্তিটি শারমিনের স্বামী মাসুদ বলে নিশ্চিত হয়েছেন স্বজনরা। মাসুদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেছিলেন শারমিন। পারিবারিক মীমাংসার পর স্বামীর হাতে তুলে দেওয়া হয় শারমিনকে। সেই মীমাংসার চার মাস পর লঞ্চের কেবিনে পাওয়া যায় শারমিনের লাশ।
সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে র্যাবের গণমাধ্যম ও আইন শাখার পরিচালক এবং মুখপাত্র খন্দকার আল মইন এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, মাসুদকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গত শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) ঢাকা-বরিশাল চলাচলকারী এমভি কুয়াকাটা-২ লঞ্চের কেবিন থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার হয়। পরে পুলিশ তার পরিচয় নিশ্চিত হয়— নিহতের নাম শারমিন আক্তার (২৭)। শারমিন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের রাফিয়াদি গ্রামের ফকির বাড়ির এনায়েত হোসেন ফকিরের মেয়ে।
পারিবারিক কলহের জেরে শারমিনকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়েছে মাসুদ বলে অভিযোগ করেন তার বাবা।
ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার (১১ ডিসেম্বর) বিকালে শারমিনের লাশ স্বজনের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে স্বামী মাসুদ হাওলাদারকে আসামি করে মামলা করেন শারমিনের বাবা। মাসুদ ঝালকাঠির নলছিটির পশ্চিম গোপালপুর গ্রামের জলিল হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় কাভার্ডভ্যানের চালক।
এনায়েত ফকির বলেন, ‘শারমিন দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করছিল। মাসুদও ঢাকায় থাকতো। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক বছর আগে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মাসুদ শারমিনকে নির্যাতন করতো। এই ঘটনায় আমরা মামলাও করেছিলাম। পরে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয়। চার মাস ধরে আমার মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না তার। মোবাইলেও তাকে পাওয়া যেতো না।’
শারমিনকে নিয়ে মাসুদ যে বরিশাল যাচ্ছে, তাও জানতেন না বাবা।
শুক্রবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে শারমিনের খবর প্রকাশ হলে ছবি দেখে তার বাবা মেয়েকে চিনতে পারেন। রাতে তিনি বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় যান। সেখান থেকে লাশ মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ৯টার দিকে বাদী হয়ে তিনি থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলায় শারমিনের স্বামী মাসুদের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আজিমুল করিম বলেন, ‘নিহত নারীর বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’