মাদকসহ গ্রেফতার হওয়া জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ শাহানশাহ রাজধানীর উত্তরা ৬ নম্বরের হোটেল ডি মেরিডিয়ানে আরও তিনজনসহ অবস্থান করছিলেন। হোটেল ডি মেরিডিয়ানের এন্ট্রি খাতা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বুধবার সন্ধ্যায় তারা হোটেলটিতে ওঠেন। হোটেল ডি মেরিডিয়ানের কর্মচারী আশরাফ বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় তারা ৪ জন ৩০৮ নম্বর রুমে ওঠেন। গেস্টের তালিকায় দেখা যায়, আখতারুজ্জামান নামে এক ব্যক্তির নামে রুমটি ভাড়া নেওয়া। রুমের অন্য সদস্যরা হলেন—গোলাম মোহাম্মদ রাজু, পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ শাহানশাহ ও মনোয়ার হোসেন।
এ বিষয়ে র্যাব কর্মকর্তারা বলেন, অভিযান চালিয়ে তাদের চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি তার সঙ্গে আরও কয়েকজন হোটেল রুমে অবস্থান করছিল। আমরা যেসব বিষয় খতিয়ে দেখছি।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) ভোর রাত থেকেই উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরের হোটেল ডি মেরিডিয়ান ঘিরে রাখে র্যাব কর্মকর্তারা। অভিযান শেষে দুপুর বারোটার দিকে হোটেল কক্ষ থেকে মাদকসহ গ্রেফতার করে শাহনেওয়াজ শাহানশাহকে নিয়ে যাওয়া হয় র্যাব-১ এর কার্যালয়ে।
এসময় র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযান পরিচালনা করে তার কাছ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হবে। এছাড়া জামালপুরে তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা জানতে পেরেছি তিনি তার দাম্ভিকতার কারণে বিভিন্ন জায়গায় নিজেকে বড়ভাবে উপস্থাপন করতেন। তার বিরুদ্ধে মারধর এবং সরকারি কর্মকর্তা লাঞ্ছনার অভিযোগসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে।
তিনি বলেন, হোটেলে এসে শাহনেওয়াজ মাদক নিচ্ছিলেন। তিনি একজন মাদকসেবী। মাদকাসক্ত হওয়ার কারণেই তিনি বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে নিজের দাম্ভিকতা দেখাতে শিক্ষা কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলেন। অভিযানে তার কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। র্যাব এ বিষয়ে মাদক আইনে একটি মামলা দায়ের করবে।
বরখাস্ত ওই পৌর মেয়র বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার কোনও তথ্য তার কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে মামলা এবং বিজয় দিবসের ওই ঘটনার পর আশ্রয়ের জন্য রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসহ অনেক ব্যক্তির শরণাপন্ন হয়েছিলেন কিন্তু কেউ তার সহায়তায় এগিয়ে আসেনি।
তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ কারণে বিভিন্নভাবে আত্মগোপনে থেকে অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। নিজেকে নিরাপদ করার একটি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: