ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পাঁচ পুলিশ ক্লোজ

পুলিশযশোরের ঝিকরগাছায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুইডিশ দম্পতির কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া ৩ হাজার ডলার ফেরত দিয়েছে পুলিশ। তবে এরপর ওই দম্পতির কাছ থেকে এই বলে লিখিত নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে যে, ‘ডলারগুলো পুলিশ নেয়নি, বাড়ি ফিরে নিজেদের ব্যাগেই তারা সেগুলো খুঁজে পেয়েছেন, এর সঙ্গে পুলিশ জড়িত নয়।’
এ ঘটনায় ঝিকরগাছা থানার এসআই এজাজ আহম্মেদসহ পুলিশের ৫ সদস্যকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঝিকরগাছা থানার ওসি।
নড়াইল জেলার কালিয়ার খুকুমনি পারভীন (সুইডিশ পাসপোর্ট নম্বর ৯০৬০২৩০৬) গত ২৬ বছর ধরে সুইডেনে থাকেন। পেশায় একজন সেবিকা। তার স্বামী ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমানও সুইডেনের নাগরিক। তিনি সেখানে আছেন ২৭ বছর ধরে। গত ১৪ ডিসেম্বর তারা দুজন দেশে আসেন। এরপর ১ জানুয়ারি ভারতে বেড়াতে যান খুকুমনি। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফেরেন। তাকে আনতে যান স্বামী মিজানুর রহমান। দুজনে একটি ট্যাক্সি ভাড়া করে বেনাপোল থেকে নড়াইলের উদ্দেশে রওনা হন। পথে যশোর-বেনাপোল সড়কের ঝিকরগাছার পাঁচপুকুর এলাকায় পুলিশের একটি টিম চেকিংয়ের নামে তাদের গাড়ি থামায়। এরপর তার হাত ব্যাগে থাকা তিন হাজার ইউএস ডলার ছিনিয়ে নেয় পুলিশ। একইসঙ্গে ওই দম্পতির সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করা হয়।

সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে খুকুমনি সরাসরি যশোর প্রেসক্লাবে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন যে, চেকিংয়ের সময় সুইডিশ পাসপোর্ট দেখানোর পরও পুলিশ তাদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেছে। তার কাছে থাকা ছোট পার্সটি পর্যন্ত তন্ন তন্ন করে দেখেন তারা। এসময় সেখান থেকে পুলিশ সদস্যরা ৩ হাজার ডলার বের করে নেন এবং নানারকম হুমকি-ধামকি দেন। দীর্ঘদিন সুইডেনে থাকা এ দম্পতি পুলিশের এমন আচরণে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে দ্রুত ওই এলাকা ত্যাগ করেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে রাতেই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তৎপর হয়ে ওঠেন। ঝিকরগাছা থানার এসআই এজাজসহ ৫ পুলিশ সদস্যকে যশোর পুলিশ লাইনে ক্লোজ করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ঝিকরগাছা থানার ওসি মোল্যা খবির আহমেদ বলেন, ‘বিনা অনুমতিতে তল্লাশ চৌকি বসানোয় ওই ৫ জনকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।’

অন্য চার পুলিশ সদস্য হলেন কনস্টেবল আজিজুর রহমান, মামুন হোসেন, বাবর আলী ও জিয়াউল হাসান।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক বলেন, ‘তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে শুক্রবার বিকেলে সুইডিশ নাগরিক মিজানুর রহমান নড়াইল থেকে সেলফোনে বলেন, ‘শুক্রবার ভোরে পুলিশের এক সদস্য ফোন করে আমার বাড়িতে আসতে চান। আমি অসম্মতি জানালে কিছুক্ষণ পর এক যুবক মোটরসাইকেলে বাড়িতে এসে একটি খামে করে তিন হাজার ডলার ফেরত দেন। যুবকটি জানায়, দারোগা স্যার আপনাকে এই ডলার দিতে বলেছেন। এরপর যুবকটি একটি সাদা কাগজ বের করে বলেন- এখানে একটু লিখে দেন যে, আপনাদের ডলার পুলিশ নেয়নি, বাড়ি ফিরে ব্যাগেই ডলারগুলো পাওয়া গেছে। এসব লিখতে অস্বীকৃতি জানালে যুবকটি চলে যায়। পরে লোহাগড়া থেকে আরও দুই ব্যক্তি তাদের বাড়িতে যান এবং ওই একই কথা লিখিত আকারে দেওয়ার জন্য অনুনয়-বিনয় করেন। তারা বলেন যে, ডলার আত্মসাতের ঘটনায় পুলিশ দায়ী নয়- এ কথা লিখিত আকারে না দিলে ওই পুলিশ সদস্যদের চাকরি থাকবে না।’

কিন্তু তিনি এ দফায়ও মিথ্যা কথা লিখতে অস্বীকৃতি জানান।

/এএইচ/