গ্রেফতারকৃত তিনজন হলেন, রফিকুল ইসলাম, শামীম খান ও ওমর ফারুক খান। তাদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম রবিবার ও শামীম খান সোমবার আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। রফিকুল ইসলাম হলেন হিমুর খুব কাছের বন্ধু। তাকে হাত করেই হিমুর শ্বশুর আলতাফ হোসেন খুন করান। আলতাফের সঙ্গে রফিকের তিন লাখ টাকার চুক্তি হয়। আলতাফ পুরান ঢাকার একজন ব্যবসায়ী। তার মেয়ে মলিকে বিয়ে করেছিলেন হিমু। এই বিয়ে তিনি মেনে নিতে না পারায় এই খুনের ঘটনা ঘটায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে রূপনগর থানার ওসি জানান, গত ১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ব্যবসায়িক আলোচনার কথা বলে হিমুকে বাসা থেকে ফোন করে ডেকে আনেন রফিক। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার দোয়েল চত্বরে বসেন। রফিক ছাড়াও সেখানে শামীম খান ও ওমর ফারুক ছিলেন। এ সময় তারা পোলট্রি ফার্মের ব্যবসার কথা বলেন। প্রায় দুই ঘণ্টা তাদের আড্ডা চলে। আড্ডায় কয়েক দফা তারা চা খান। চায়ের সঙ্গে হিমুকে রফিক চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পর হিমু দোয়েল চত্বরে অচেতন হয়ে পড়েন। এ সময় রফিক, শামীম ও ওমর ফারুক তাকে ধরে তাদের আনা একটি মাইক্রোবাসে ওঠান। মাইক্রোবাসটি নিয়ে তারা মিরপুরের দিকে যান। মাইক্রোবাসে হিমু ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় জিআর তার দিয়ে হিমুর গলায় পেছন দিক থেকে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করেন ওমর ফারুক। গাড়িটি চলন্ত ছিল। হিমু হা-পা নাড়াচাড়া করেন। রফিক ও শামীম তার হাত-পা চেপে ধরেন। এরপর ওমর ফারুক পিস্তল বের করে হিমুর মাথায় গুলি করেন। তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশটি রূপনগরের ইস্টার্ন হাউজিং এলাকার বড়ইতলার একটি খালি প্লটে ফেলে রেখে যান। ১৭ জানুয়ারি আলতাফ হোসেনের কাছ থেকে তিনলাখ টাকা নিয়ে যান রফিক।
ওসি আরও বলেন, খিলগাঁও থেকে মাইক্রোবাসটি বিয়ের কথা বলে ভাড়া করা হয়েছিল। চালক এসব কিছু জানতেন না বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন। আসামিদের মধ্যে শামীম খানের বাড়ি খুলনার রূপসায়। প্রথমে শামীমকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রূপনগরের একটি সুটিং স্পট থেকে ওমর ফারুক এবং রফিককে চকবাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রফিকের কাছ থেকে পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রূপনগর থানার পরিদর্শক মতলুবুর রহমান বলেন, খুনের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। দ্রুত অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
হিমু হত্যার পর থেকেই তার পরিবার ও ভাইয়েরা সন্দেহ করে আসছিলেন দ্বিতীয় স্ত্রী মলির বাবা আলতাফ হোসেনকে। তাদের সন্দেহই ঠিক হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। হিমুকে তার মেয়ে বিয়ে করায় আলতাফ হিমুর ওপর ক্ষিপ্ত হন।
নিহত হিমুর গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে। পুরান ঢাকার লার্মিনি স্ট্রিটের ২৬/৪ নম্বর বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তার বাবার নাম মৃত আতাউর রহমান। হিমুর প্রথম স্ত্রীর নাম লাবন্য। মলির সঙ্গে সম্পর্কের কারণে ঘটনার চার মাস আগে প্রথম স্ত্রী লাবণ্যের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয় হিমুর। দশ বছরের সংসার ত্যাগ করে লাবণ্য তার নয় বছরের ছেলে মাহিরকে নিয়ে পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন।
নিহতের ভাই হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, হিমুর বিরুদ্ধে মলির বাবা আলতাফ হোসেন ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে ওয়ারী থানায় একটি মামলাও দায়ের করেন। এ মামলায় হিমু কিছুদিন জেলেও ছিলেন। এর মাঝে আলতাফ তার মেয়েকে আমেরিকায় পাঠিয়ে দেন।
হাবিবুর আরও জানান, জেল থেকে হিমু বের হওয়ার পর আলতাফ ফের গুম করে হত্যা করার ভয় দেখান। এ ঘটনায় হিমু ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে তার বিরুদ্ধে একটি জিডি করেন।
/এমএনএইচ/