অভিযানের নেতৃত্ব দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মশিউর রহমান।
দুপুর ১ টায় বাংলামোটর পুলিশ বক্সের সামনে গিয়ে দেখা গেছে, ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপারকারীদের পুলিশ আটক করে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নিয়ে এসেছে। দুই ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল কুদ্দুস ও মশিউর রহমান তাদের জেরা করেন। ১০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করেন। যাদের কাছে টাকা নেই, তাদের বসিয়ে রাখা হচ্ছে। কেউ-কেউ ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছেন।
একটি ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে কাজ করেন লুনা। তিনি ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার না করে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এমন সময় নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নিয়ে আসেন। ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল কুদ্দুস তাকে তার অপরাধের কথা জানান। এ সময় লুনা ক্ষিপ্ত হয়ে যান। তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ২০০ টাকা জরিমানা দিতে বলেন। তবে লুনার কাছে টাকা নেই বলে তিনি বারবার তাকে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। ম্যাজিস্ট্রেট তাকে কিছুতেই যাওয়ার অনুমতি দেননি। একপর্যায়ে তিনি ৫০ টাকা জরিমানা দিয়ে চলে যান।
লুনা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফুট ওভারব্রিজ অনেক উঁচু। সেখানে উঠতে নামতে অনেক কষ্ট। এটা আগে ব্যবহার উপযোগী করা উচিত। ফুট ওভারব্রিজগুলো অপরিষ্কার থাকে। এ সব বিষয় ঠিক না করে জরিমানা করা ঠিক না।’
ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল কুদ্দুস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আজ থেকে ১৫ মাস আগে এই অভিযান চালানো হয়েছিল। আমরা যে মেগাসিটিতে বসবাস করি, সেই নগর যেন সবার মাঝে থাকে। আমরা সেজন্য চেষ্টা করেছি।’ তিনি বলেন, ‘ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহায়তায় ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে অভিযান চালানো হয়েছে। যারা ফুট ওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপারের চেষ্টা করছেন, তাদের দণ্ডবিধির ২৯০ ধারায় ২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করেছি।’
ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল কুদ্দুস আরও জানান, দুপুর সোয়া ২টা পর্যন্ত ৯১ জনকে মোট ৮ হাজার ৮৩০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সর্বোচ্চ জরিমানার হার ২০০ টাকা।
ডিএমপি ট্রাফিক (দক্ষিণ) বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) রিফাত রহমান বলেন, মিডিয়া মাধ্যমে ও নিজেরা প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
ওভারব্রিজ থাকার পরও যারা ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার হচ্ছেন, তাদের জন্য এই অভিযান। আশা করছি, জরিমানা ও প্রচারণার কারণে মানুষ ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে সচেতন হবে।
এদিকে, দেলোয়ার নামে এক পথচারী অভিযোগ করেন, আমি কিছুই জানি না। আমি জরিমানার কথা জানলে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতাম না। মোবাইল কোর্টের বিষয়টি আগে জানানো উচিত ছিল। তবে, তার এই অভিযোগ অগ্রহণযোগ্য বলে দাবি করেছেন দুই ম্যাজিস্ট্রেট। তারা বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের আইনে রয়েছে, যেখানে ফুটওভারব্রিজ আছে, সেখানে পথচারীদের ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করতে হবে। যেখানে জেব্রাক্রসিং আছে সেখানে সেটাই ব্যবহার করতে হবে।’
/এমএনএইচ/