এদিকে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে আল কায়েদা। শুক্রবার জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’-এর ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আল কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা আনসার আল ইসলাম ঢাকায় নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যার দায় স্বীকার করেছে।
তদন্তে সংশ্লিষ্টরা জানান, থানা পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি ব্লগার নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যাকাণ্ডের ছায়া তদন্তের কাজ করছে দেশের বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা। যেকোনও সময়ে তারাও এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতি জানাতে পারবেন। তবে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কোনও তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তার ফেইসবুকেও ধর্মবিদ্বেষী গুরুতর কোনও মন্তব্য ও তথ্য পাওয়া যায়নি। তা হলে তাকে কারা, কী কারণে নির্মমভাবে হত্যা করলেন, সেই খুনিদের বের করাই এখন তদন্তের মুখ্য বিষয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সান্ধ্যকালীন কোর্সের এলএলএম-এর বি সেকশনের ছাত্র ছিলেন নাজিমুদ্দিন সামাদ। তিনি সিলেট জেলা বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পরিষদের তথ্য ও গবেষণা বিষয়কসম্পাদক এবং গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ছিলেন। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর সুত্রাপুরের একরামপুর মোড়ে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেন। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্তের পর তার লাশ রাখা হয়েছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গের হিমাগারে।
নিহত নাজিমুদ্দিনের চাচাতো ভাই বদরুল হক বৃহস্পতিবার রাতে লন্ডন থেকে দেশে ফিরেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গ থেকে লাশ নিয়ে সিলেটের বিয়ানী বাজার উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের মাটিজুরা গ্রামে নিয়ে যান। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা আবদুস সামাদের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে লন্ডন থেকে নিহত নাজিমুদ্দিন সামাদের চাচাতো ভাই বদরুল হক দেশে ফিরে সুত্রাপুর থানায় যান। সেখানে গিয়ে তারা মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করায় থানার এসআই নুরুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) সমীর চন্দ্র সূত্রধর।
নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যার মামলার বাদি ও সুত্রাপুর থানার এসআই নুরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা লাশ উদ্ধার করেন। দুর্বৃত্তরা প্রথমে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ও পরে গুলি করে হত্যা করে নাজিমুদ্দিনকে। যে অস্ত্র দিয়ে গুলি কররা হয়েছে, সেটি পিস্তল নাকি রিভলবার ছিল, ওই বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন। ঘটনাস্থল থেকে তারা একটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছেন।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও সুত্রাপুর থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) সমীর চন্দ্র সূত্রধর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সম্ভাব্য সব কারণ সামনে রেখেই তারা তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ছাড়া আরও কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা মামলাটির ছায়া তদন্ত করছেন। আশা করছেন, শিগগিরই তারা মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানাতে পারবেন। তিনি বলেন, দ্রুত মৃত্যু নিশ্চিত করতেই চাপাতি দিয়ে কোপানোর পর মাথায় গুলি করেন খুনিরা। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা গুলির খোসাটি পিস্তলের বলেই ধারণা তার। তবে গুলির খোসার ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পর অস্ত্রটি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
তদন্ত কর্মকর্তা সমীর চন্দ্র সূত্রধর আরও জানান, তদন্তের স্বার্থে কিছু বিষয় তারা প্রকাশ করছেন না। তবে সন্দেহভাজন কয়েকজন খুনিকে তারা নজরদারিতে রেখেছেন। বিভিন্ন উপায়ে পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই ও আরও কিছু তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতার করতে তারা সক্ষম হবেন। নিহতের সঙ্গে থাকা বন্ধু সোহেলসহ ঘটনাস্থলের আশেপাশের অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তারা। তবে কাউকে এখনও আটক কিংবা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে থাকা বন্ধু সোহেল তাদের জানিয়েছেন, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সুত্রাপুরের ঋশিকেষ দাশরোডের একরামপুর মোড় অতিক্রম করার সময় পাশ থেকে দুই যুবক হেঁটে এসে নাজিমুদ্দিনের মাথায় কোপ দেন। এতে নাজিমুদ্দিন রাস্তার ওপর পড়ে যান। আতঙ্কে সোহেল দৌড়ে রাস্তার অন্যপ্রান্তে চলে যান। রাস্তা পার হয়ে সোহেল দেখেন ওই দুই যুবক ছাড়া আরও তিন যুবক নাজিমুদ্দিন ঘিরে ফেলেছে। এ সময় খুনিদের একজন পিস্তল বের করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নাজিমুদ্দিনের মাথায় পরপর দুই রাউন্ড গুলি করে। এতে তার মাথার ডান দিকের খুলি উড়ে যায়। রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে মাথার মগজ।
/এমএনএইচ/