বিমান বন্দর সূত্র জানায়, বিমানবন্দরের কার্গো আমদানি বিল্ডিং গ্রিনচ্যানেলের গেট থেকে ২০ পিস মোবাইল ভর্তি একটি কার্টন নিয়ে ছাদে চলে যান কার্গো হেল্পার নুরুল আমিন। ছাদে মোবাইলের কার্টন খোলার সময় তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন বিমানের সিকিউরিটি সুপারভাইজার আবু সাইদ। এরপর তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এ বিষয়ে ‘ম্যাজিস্ট্রেটস অল এয়ারপোর্টস অব বাংলাদেশ’ ফেসবুক পেজে প্রদত্ত নম্বরে যোগাযোগ করা হলে বিমানবন্দরের অন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পেইজটির এডমিন মুহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘বিমানের সিকিউরিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজই হলো এসব মালামালের নিরাপত্তা বিধান করা। যদিও প্রতিনিয়ত চুরির ঘটনা ঘটলেও বিমানের নিররাপত্তাকর্মীরা কোনও অপরাধই ধরতে পারেননি। এই প্রথম বিমান সিকিউরিটি সেকশন চুরির সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করেছে।’
এর আগে গত ১৫ মার্চ এক যাত্রীর মোবাইল চুরির দায়ে ১ বিমানকর্মীকে আটক করেছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ০৫ নম্বর বোর্ডিং ব্রিজে মালামাল নামানোর সময় বিমানের ভেতর থেকে ৩টি মোবাইল ফোন চুরি করেন বিমানের ট্রাফিক হেলপার কাউছার ইসলাম (আইডি নম্বর-১০০৪৪)। বিমানবন্দর ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত কাউসারের সাজা দেওয়ার আদেশে ‘চুরির সঙ্গে জড়িত বিমানকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে’ নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই আদেশের কপি বিমানের এমডির কাছে পাঠানো হয়।
প্রসঙ্গত, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিনই যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের মালামাল চুরি হচ্ছে। অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। এসব ঘটনার জন্য বিমানবন্দরে আমদানি-রফতানিতে কার্গো হ্যান্ডলিং ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং এজেন্ট হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে দুষছেন যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা। বারবার অভিযোগ করেও প্রতিকার না পেয়ে এসব ঘটনাকে ‘নিয়ম’ বলেই মেনে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বরং অব্যবস্থাপনা ও মালামাল চুরির ঘটনায় বিমানের হাত থেকে গ্রাউন্ড ও কার্গো হ্যান্ডলিং সরিয়ে নিতেও বিমান মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছে ব্যবসায়ীদের একাধিক সংগঠন।
/এমএনএইচ/