কক্সবাজারে মা-মেয়েকে ধর্ষণ: জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি

কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলায় ডাকাতির সময় এক নারী ও তার কিশোরী মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

বুধবার (১০ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এ প্রতিক্রিয়া জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুন দিবাগত রাতে ৮ থেকে ১০ সদস্যের একটি ডাকাত দল জানালার গ্রিল কেটে একটি বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় তারা আলমারি থেকে সোনা ও নগদ টাকা লুট করার পাশাপাশি গৃহবধূ ও তার কিশোরী মেয়েকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।

সংগঠনটি বলেছে, এ ধরনের বর্বর ও অমানবিক ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়; এটি রাষ্ট্রের নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

বিবৃতিতে বলা হয়, নারীর প্রতি যৌন সহিংসতা ও দলবদ্ধ ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা নাগরিকদের নিরাপত্তাবোধকে গভীরভাবে আঘাত করে এবং সমাজে ভীতি ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করে। ধারাবাহিকভাবে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ প্রতিরোধ, দ্রুত তদন্ত এবং কার্যকর জবাবদিহির ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে।

আসক এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং প্রচলিত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী মা ও কিশোরীর জরুরি চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিরোধমূলক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি জোরদার এবং অপরাধীদের প্রভাবমুক্ত রেখে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

একটি ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার কোনও স্থান নেই উল্লেখ করে আসক এ ধরনের অপরাধ দমনে রাষ্ট্রকে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।