রাজধানীর রমনা থানায় দায়ের করা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বিল্লাল হোসেন হত্যা মামলায় গ্রেফতার রিয়াজুল হাসান (৫০) ও মো. আল আমিন মাহিনের (৩৭) রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রিয়াজুলের পাঁচ দিন এবং মাহিনের চার দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আতিকুল আলম খন্দকারের আবেদনের পর এ আদেশ দেন।
আদালতে দাখিল করা আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, বিল্লাল হোসেন হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে গ্রেফতার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন, এজাহারভুক্ত পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেফতার, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের নাম-পরিচয় উদঘাটন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান পরিচালনার জন্য তাদের ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন।
আবেদনে আরও বলা হয়, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে, যা মামলার তদন্তে সহায়ক হবে।
রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন। তিনি আদালতে বলেন, এ ধরনের ঘটনায় দেশে অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা উদঘাটনে আসামিদের সর্বোচ্চ রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করেন।
শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড আবেদন আংশিক মঞ্জুর করে রিয়াজুল হাসানের পাঁচ দিন এবং মো. আল আমিন মাহিনের চার দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিল্লাল হোসেন রমনা এলাকার আরাফাত মার্কেটে ব্যবসা করতেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে দিদারুল ইসলাম বাবুসহ কয়েকজনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ৮ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দিদারুল ইসলাম বাবু ‘শালিসের কথা’ বলে বিল্লাল হোসেনকে আরাফাত মার্কেটের পেছনে ডেকে নেন। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া আসামিরা তাকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে দিদারুল ইসলাম বাবু ও তার সহযোগীরা লোহার রড, ক্রিকেট স্টাম্প ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করেন। এ সময় রিয়াজুল হাসান ও আল আমিন মাহিনসহ অন্য আসামিরাও হামলায় অংশ নেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদী আছিয়া খাতুনের দাবি, হামলার একপর্যায়ে দিদারুল ইসলাম বাবু বিল্লাল হোসেনের বুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী আছিয়া খাতুন বাদী হয়ে রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় দিদারুল ইসলাম বাবুসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে বিল্লাল হোসেনকে হত্যা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।