রাজধানীর মৌচাক এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের রমনা থানার সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেন তালুকদার (৫৭) হত্যা মামলার আসামি আল আমিন মাহিনকে চার দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (১৪ জুন) রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) আতিকুল আলম খন্দকার তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এএসআই রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কারাগারে আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় মাহিন মামলার ঘটনার সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কিছু তথ্য দিয়েছেন। তবে তিনি ধারাবাহিকভাবে সুস্পষ্ট তথ্য না দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন তথ্য দেন, যা তদন্তকারীরা সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করছেন। এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা হওয়ায় আসামি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে কিংবা পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে গত বুধবার (১০ জুন) আদালত মাহিনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই দিন মামলার আরেক আসামি রিয়াজুল হাসানের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
পরদিন বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রমনা মডেল থানার যুবদলের সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান ওরফে লুৎফর রহমান পাটোয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের টিমপ্রধান ইশতিয়াক আলী রাকিব ওরফে গোল্ডেন রাকিবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়। পরে শুক্রবার তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাত ৮টার দিকে সালিশের কথা বলে বিল্লাল হোসেন তালুকদারকে মৌচাকের আনারকলি মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে ছুরিকাঘাত করা হলে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত পৌনে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন রমনা মডেল থানায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিল্লালের ভাগ্নে মোবারক হোসেন আকাশের সঙ্গে আনারকলি মার্কেট এলাকায় চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে বিল্লালকে ডেকে নিয়ে হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং আকাশকেও মারধর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।