অভিনেত্রীর ঝিলিকের মৃত্যু: রিমান্ড শেষে কারাগারে আসামি

ঢাকায় হাসপাতালের বারান্দা থেকে পড়ে অভিনেত্রী আসমা আক্তার ঝিলিকের মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী সাফিউল্লাহ ওরফে মহব্বতকে (৪৫) রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী আব্দুল মান্নান আসামিকে আদালতে হাজির করে আত্মহত্যায় প্ররোচনায় করা মামলায় কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৮ তলার বারান্দা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় ঝিলিকের। এ ঘটনায় তার বড় ভাই মোজাম্মেল হক শনিবার ধানমন্ডি মডেল থানায় মামলা করেন। এ মামলায় অভিনেত্রীর স্বামী সাফিউল্লাহকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শনিবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড দেন আদালত।

রিমান্ড শেষে রবিবার কারাগারে আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে সে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে; যা মামলার তদন্তে যথেষ্ট সহায়ক হবে। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যাদি অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তথ্যাদি অনুসন্ধানের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে তার দেওয়া তথ্যাদি অনুসন্ধানে এবং মামলা তদন্তে বিঘ্ন ঘটবে।

তবে আসামির পক্ষে জামিনের আবেদন ছিল না বলে জানান এসআই আবুল বাশার।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, সাফিউল্লাহর তীব্র পেটে ব্যথা হলে ঝিলিক ও তার ভাই মোজাম্মেল ১০ জুন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়ার সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ মতে তাকে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সাফিউল্লাহর শারীরিক অবস্থা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট দেখে ইবনে সিনা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দেন। তবে ইবনে সিনা হাসপাতালে সিট বা কেবিন খালি না থাকায় ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে রাখা হয়। তাকে দেখাশোনার জন্য ঝিলিক হাসপাতালে অবস্থান করেন।

সাফিউল্লাহকে দেখতে শুক্রবার সকালে তার বোন, ভগ্নিপতি ও প্রথম পক্ষের ছেলে হাসপাতালে আসেন। সুস্থ হওয়ায় সকাল ১০টার দিকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় হাসপাতাল থেকে। বিষয়টি ঝিলিক তার ভাই মোজাম্মেলকে জানান এবং হাসপাতালে বিলের জন্য ১৬ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন। দুপুর সোয়া ১টার দিকে ঝিলিকের সঙ্গে তার ছোট বোন রেশমি আক্তারের ভিডিও কলে কথা হয়। এর ঘণ্টাখানেক পর সাফিউল্লাহ ঝিলিকের বাবাকে ফোন করে জানান, ঝিলিক কেবিনের পেছনের খোলা বারান্দার জানালা দিয়ে পড়ে গিয়ে মারা গেছেন।

ছোট ও বড় পর্দা মিলিয়ে আসমা আক্তার ঝিলিক বেশকিছু কাজ করেছেন। চিত্রনায়ক শাকিব খান অভিনীত ‘রংবাজ’ সিনেমার একটি চরিত্রেও কাজ করেন তিনি।