জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গুলশান থানায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নাজিম উদ্দিনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারের ছেলে শাহেদ আহমেদ মজুমদারসহ তিনজনকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত তাদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
গ্রেফতার দেখানো অপর আসামিরা হলেন— আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা ও অর্থ জোগানদাতা সেলিম প্রধান এবং সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আবু সাঈদ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. মোশারফ আসামিদের আদালতে হাজির করে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, আসামিরা আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা ও অর্থ জোগানদাতা। তারা অত্যন্ত সুকৌশলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন প্রতিহত করার চেষ্টা করেন এবং অর্থ জোগানের মাধ্যমে মামলার ঘটনাটি সংঘটিত করেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে তাদের গ্রেফতার দেখানো একান্ত প্রয়োজন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর ভাটারা থানার দক্ষিণে বাঁশতলা এলাকায় বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় আসামিরা ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নির্বিচার গুলিবর্ষণ করেন। এতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন মাদ্রাসা ছাত্র নাজিম উদ্দিন। পরে সিটিস্ক্যান করলে তার মাথায় ১৮০টি ছররা গুলি দেখতে পান কর্তব্যরত চিকিৎসক। এর মধ্যে ১২৭টি গুলি বের করা হয়।
ওই ঘটনায় ভিকটিমের খালা গুলশান থানায় বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তিনজনকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়।