হেল্পার পরিচয়ের আড়ালে অস্ত্র-মাদকের ব্যবসা, মূলহোতাসহ গ্রেফতার ৪

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী সজল ওরফে ‘অটো সজল’কে তিন সহযোগীসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার অন্যরা হলেন বাপ্পী, হানিফ ও মোছা. শামসুন্নাহার। এ সময় তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, হেরোইন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

শুক্রবার (১৯ জুন) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সজল স্বামীবাগের একটি ভাড়া বাসায় অস্ত্র ও মাদক মজুত রাখার কথা স্বীকার করেন। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে দুটি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন, ৭৭ রাউন্ড তাজা গুলি, ৫৯ গ্রাম হেরোইন, হেরোইন প্রস্তুতে ব্যবহৃত ৮৭ গ্রাম ‘মেডি’, মাদক বিক্রির ২২ হাজার ৯৬০ টাকা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএম‌পির অ‌তি‌রিক্ত ক‌মিশনার জানান, গত ২ মার্চ সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযানের সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) এক পরিদর্শক গুলিবিদ্ধ হন। ওই ঘটনায় গ্রেফতার তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ‘অটো সজলের’ নাম উঠে আসে। এরপরে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিএমপির এই অতিরিক্ত কমিশনার আরও বলেন, সজল দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র সরবরাহ ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। পেশায় তিনি একটি পরিবহনের হেল্পার হলেও আড়ালে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ১১টি মামলা রয়েছে।

এদিকে, সম্প্রতি চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ‘কাইল্লা ফারুক’ জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও চাঁদাবাজিতে জড়িয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, “জামিন দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি এবং ভবিষ্যতেও সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”