আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা ইতোমধ্যে সরকার প্রত্যাহার করেছে। বাকি মামলাগুলোও পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় বাজেট অধিবেশনের ১১তম দিনের বৈঠকে সংরক্ষিত নারী আসনের সরকারি দলের সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কতটি মিথ্যা ও রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা হয়েছে—এ বিষয়ে সরকারের কাছে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই।
তিনি আরও বলেন, মামলা দায়েরের সময় এফআইআরে রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করা হয় না। তাই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তথ্য উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদের মামলার বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই বলেও তিনি জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয়। এ লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ৫ মার্চ প্রতিটি জেলায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এসব কমিটি মামলা প্রত্যাহারের আবেদন, এফআইআর, চার্জশিটের কপি এবং সরকারি কৌঁসুলির মতামত পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রদান করে।
তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের ৮ মার্চ আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়, যা জেলা কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।