মানবতাবিরোধী অপরাধ

ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিলেন ফাইয়াজের বাবা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া। সাক্ষ্যদান শেষে তিনি মামলার আসামি জাহাঙ্গীর কবির নানক, ফজলে নূর তাপসসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

বুধবার (২৪ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল তার সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার। এ সময় প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, মঈনুল করিমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ফাইয়াজের বাবা বলেন, ফাইয়াজ রাজধানীর রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ধানমন্ডিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনে গুলিতে সে নিহত হয়। ওই সময় তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। ফুঁসে উঠেছিলেন ফারহানের সহপাঠীসহ সারাদেশের স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও।

ছেলে হত্যার ঘটনার বর্ণনা শেষে তিনি আদালতের কাছে ন্যায়বিচার এবং মামলার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

মামলায় অভিযুক্ত ২৮ জনের মধ্যে বর্তমানে চারজন গ্রেফতার রয়েছেন। তারা হলেন— নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক এবং ফজলে রাব্বি।

অন্যদিকে পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, এডিসি রওশুনুল হক, এম এ সাত্তার, তোফায়েল, তারেকুজ্জামান, আরিফুর রহমান তুহিন, আহাদ হোসাইন, মো. ইউনূস, মোল্লা রুবেল, আজিজুল হক, রিয়াজ মাহমুদ, হৃদয়, মাইনুল ইসলাম, শেখ বজলুর রহমান, জহির উদ্দিন, আয়মান, সেন্টু মিয়া এবং ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্ট্রনসহ অন্যরা।

এর আগে গত ১০ মে প্রসিকিউশনের দাখিল করা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়ে ২৮ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। অভিযোগ গঠনের সময় গ্রেফতার চার আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নৃশংসতা চালায়। আসামিদের উসকানি, প্ররোচনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে আন্দোলনরত নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও বহু মানুষ।