যাত্রী হয়রানির দায়ে রিজেন্ট এয়ারওয়েজকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

রিজেন্ট এয়ারওয়েজনিয়ম না মেনে অতিরিক্ত যাত্রী বুকিং দিয়েও সেবা দিতে না পারায় রিজেন্ট এয়ারওয়েজকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউসুফ  এ জরিমানা করেন।
রবিবার ছয়জন যাত্রী রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ঢাকা-মাস্কাট ফ্লাইটে (আরএক্স-৭২৩) ওভারবুকিংয়ের কারণে বোর্ডিং করতে পারেনি। বিমান সংস্থাটি  ফ্লাইটে সিট নেই জানিয়ে তাদের দুদিন পরে আসতে বলে। নিয়ম অনুসারে তাদের এই দুদিনের থাকা-খাওয়া বা যাতায়াতের ব্যবস্থা করেনি রিজেন্ট এয়ারওয়েজ। সেদিন দিবাগত রাত ১২টার দিকে যাত্রীদের এমন করুণ চিত্র তুলে ধরে ‘ম্যাজিস্ট্রেটস অল এয়ারপোর্টস অব বাংলাদেশ পেজ’ নামক ফেসবুক পেজে  মেসেজ দেন এক ব্যক্তি। বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউসুফ পেজ থেকে তাৎক্ষণিক ফিরতি জবাবে যেকোনও একজন যাত্রীর ফোন নম্বর চান। সেই ব্যক্তি ভুক্তভোগী যাত্রীদের একজন আমির হোসেনের ফোন নম্বার দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউসুফকে।

আরও পড়তে পারেন:  বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পদক্ষেপে ব্রিটিশরা সন্তুষ্ট


সোমবার সকালে আমির হোসেন নামের ওই যাত্রীর সঙ্গে এবং পরে রিজেন্ট এয়ারের স্টেশন ম্যানেজারের সঙ্গে ফোনে কথা বলে ঘটনার সত্যতা জানতে পারেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এরপর দুই পক্ষকে সোমবার বেলা ১১টায় ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে আসতে বলেন। পরে ভুক্তভোগী যাত্রী আমির হোসেন, নিরঞ্জন ঋষি, মাসুম বিল্লাল, রাশেদ মিয়া, ইনসান আলী ও মোহাম্মদ আলীর পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। প্রতিশ্রুত সেবা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ভোক্তা অধিকার আইনে প্রত্যেক অভিযোগের বিপরীতে ৫০ হাজার টাকা করে মোট তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয় রিজেন্টকে।


আদায় করা জরিমানার ২৫ শতাংশ পাবেন অভিযোগকারী যাত্রীরা, বাকি টাকা সরকারি কোষাগারে যাবে। তৎক্ষণিকভাবে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। আমির হোসেন ও নিরঞ্জন ঋষি রবিবার বিকেলে তাদের প্রাপ্য বুঝেও নিয়েছেন। অন্য চার যাত্রীকে টাকা বুঝে নিতে খবর দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়তে পারেন: চুরির দায়ে বিমানকর্মীর এক বছর কারাদণ্ড

এ প্রসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউসুফ  বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে রিজেন্ট এয়ার আন্তরিকভাবে সহায়তা করেছে এবং আইন মেনে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি তারা বড়াতি কোনও টাকা ছাড়াই ওই ছয়জন যাত্রীকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাশ্রয়ী আসনের (ইকোনোমি) পরিবর্তে অভিজাত আসনে (বিজনেস ক্লাস) পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মুহাম্মদ ইউসুফ  বলেন, যাদের ঘামে দেশের চাকা ঘোরে, সেই প্রবাসীসহ সব যাত্রীর অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা বিমানবন্দরে সজাগ। যাত্রীসেবা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এর আগে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি বিমান সংস্থাকে জরিমানা ও সতর্ক করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

/সিএ/এমএনএইচ/