জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার আশুলিয়া থানায় দায়ের করা এক হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে মডেল সিমু আক্তার বৃষ্টি ওরফে মিষ্টি সুবাসকে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৮ জুন) ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ এ আদেশ দেন। শুনানিতে মিষ্টি সুবাস আদালতকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার নাতনি হিসেবে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে গিয়েছিলাম। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়া কি অপরাধ? কথা বললেই জামিন আটকে যাচ্ছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম গত ২৪ জুন মিষ্টি সুবাসকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন রবিবার।
এদিন শুনানিকালে মিষ্টি সুবাসকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে এসআই বিশ্বজিৎ দেবনাথ আসামিকে গ্রেফতার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। গ্রেফতার না দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন মিষ্টি সুবাসের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম রাব্বানী। তিনি বলেন, গত ২৬ মার্চ জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে গিয়ে গ্রেফতার হন মিষ্টি সুবাস। এরপর তাকে দুই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। দুই মামলায় জামিন পান তিনি। গত ২৩ জুন জামিননামা হাজতখানায় পাঠানো হয়। পরদিন তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়। ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত না। তাকে গ্রেফতার না দেখানোর প্রার্থনা করছি।
এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে মিষ্টি সুবাস বলেন, আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার নাতনি। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানতে স্মৃতিসৌধে গিয়েছিলাম।
তিনি বলেন, ৫ অগাস্টের (২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট) আগে দল-দেশ নিয়ে কিছু বলতাম না। ৫ অগাস্টের পর দেখলাম মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কথা বলছে। এরপর থেকে আমি বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলছি। এটা যদি আমার অপরাধ হয়ে থাকে, আমি সেই অপরাধে অপরাধী হতে চাই।
মিষ্টি সুবাসের একটা সন্তান রয়েছে। বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেন আদালতকে। পরে আদালত তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন। তাকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী।
আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে মিষ্টি সুবাস বলেন, বারবার আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। আমি আর কথা বলবো না। কথা বললে আমাকে বারবার আটকে দিচ্ছে। আমার কি অপরাধ জানি না। কোন অপরাধে বারবার আমাকে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। আমি বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। এটা আমার বড় অপরাধ। একের পর এক মামলা দিয়ে আটকে রেখেছে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৮ অগাস্ট বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন শাকিল বাবু নামে এক যুবক। পরে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে একই বছরের ২৫ অগাস্ট আশুলিয়া থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।