মোহাম্মদপুরে ‘পাটালি গ্রুপ’র নেতা অস্ত্রসহ গ্রেফতার

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং ‘পাটালি গ্রুপ’র সেকেন্ড ইন কমান্ড মো. শামীম পাটালিসহ আটজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটলিয়ন (র‍্যাব)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড তাজা গুলি, দুটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চাপাতি ও একটি তরবারি উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রুপটির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পথচারী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিত। মোহাম্মদপুর এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তারা জড়িত। গত ১৫ মে রায়েরবাজারে একই পরিবারের সাত সদস্যকে কুপিয়ে আহত করার আলোচিত ঘটনাতেও পাটালি গ্রুপের সদস্যদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

রবিবার (২৮ জুন) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।

তিনি বলেন, গত ২৭ জুন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব জানতে পারে, মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় পাটালি গ্রুপের সদস্যরা ছিনতাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপর অভিযান চালিয়ে শামীম পাটালির দুই সহযোগী খোকন মুন্সী ও সজীব ব্যাপারীকে গ্রেফতার করা হয়।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে চন্দ্রিমা মডেল টাউন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রুপটির অন্যতম নেতা শামীম পাটালিকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, শামীম পাটালিসহ পাটালি পরিবারের কয়েকজন সদস্য গত ১৫ মে একই পরিবারের সাত সদস্যকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় অভিযুক্ত। এর আগে পাটালি পরিবারের আরও দুই সদস্য রানা পাটালি ও রাসেল পাটালি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

নয়মুল হাসান বলেন, পাটালি পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

তিনি জানান, একই রাতে পৃথক দুটি অভিযানে চাঁদ উদ্যান এলাকা থেকে শাকিউল করিম ও আরিফকে একটি চাপাতিসহ এবং বাবর রোড এলাকা থেকে হৃদয় ও নয়নকে একটি চাপাতিসহ গ্রেফতার করা হয়।

এছাড়া গত ২৪ জুন রায়েরবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাটালি গ্রুপের সদস্য জুয়েল ও তার সহযোগী শাকিলকে একটি তরবারিসহ গ্রেফতার করা হয়েছিল।

র‍্যাবের তথ্যমতে, শামীম পাটালির বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় চুরি, দস্যুতা, হত্যাচেষ্টা, গুরুতর আঘাত ও মাদকসহ আটটি মামলা রয়েছে। আরিফের বিরুদ্ধে চারটি, হৃদয়ের বিরুদ্ধে সাতটি এবং অন্যদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় মাদক, দস্যুতা, ডাকাতির প্রস্তুতি ও যৌতুকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

মোহাম্মদপুরের আরেক কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিষয়ে জানতে চাইলে র‍্যাব-২-এর অধিনায়ক বলেন, সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত অনেক বিস্তৃত। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।

মোহাম্মদপুর কবে নিরাপদ হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় এলাকায় অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মোহাম্মদপুরকে নিরাপদ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।