জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে দায়ের হওয়া বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এজাহারভুক্ত সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট সার্ভিস রুলস অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রিট দায়েরের তথ্য নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী এস. এম. জুলফিকুর আলী জুনু।
রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত গুলিবর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সদস্যকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। এসব মামলার তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট সদস্যদের দায়িত্বে বহাল রাখা হলে তদন্তের নিরপেক্ষতা, জনআস্থা এবং আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রিটের মাধ্যমে কারও অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে— এমন কোনও ঘোষণা চাওয়া হয়নি। বরং তদন্ত চলাকালে প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট সার্ভিস রুলস অনুযায়ী উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ যেন প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা, যেমন- সাময়িক বরখাস্ত বা দায়িত্ব সীমিতকরণের বিষয়টি আইন অনুযায়ী বিবেচনা করে, সেই নির্দেশনা প্রার্থনা করা হয়েছে।
রিটে আদালতের কাছে কয়েকটি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এজাহারভুক্ত সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও সার্ভিস রুলস অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিবেচনা না করার বৈধতা ব্যাখ্যা করতে রুল জারি, রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তদন্তাধীন কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সাময়িক বরখাস্ত বা অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি আইন অনুযায়ী বিবেচনার নির্দেশ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত অন্য যেকোনও আদেশ প্রদান।
রিটের সঙ্গে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন, বিভিন্ন অনলাইন সংবাদ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো প্রতিনিধিত্বপত্র এবং ডাক রসিদসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে।