বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিলের জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে ঢাকার আদাবর এলাকায় বিএনপি নেতা আবুল বাশারকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেফতার সোয়েব হোসেন সোয়াইব ও মো. কবির নামে দুই জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথির আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন৷
এর আগে, সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাদের আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন আদাবর থানার এসআই মো. হাফিজুর রহমান।
আবেদনে বলা হয়, আসামিরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আছে প্রাথমিক তদন্তে সাক্ষ্য প্রদান পাওয়া যাচ্ছে। তাদের সম্পর্কে আরও গভীর ও নিবিড়ভাবে তদন্ত অব্যাহত আছে। গভীর তদন্তকালে যদি আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আছে— এমন সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে ওই হত্যা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হবে। তদন্ত সমাপ্ত, নাম ঠিকানা যাচাই ও বাদীর এজাহার না পাওয়া পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।
আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবী মো. মাহবুব আলম জামিন চেয়ে প্রার্থনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শফিকুল ইসলাম বলেন, আজ দুই আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আগামি পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে পুলিশকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আসামিদের জামিনের বিষয়ে শুনানি হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার আদাবরের নবোদয় হাউজিং থেকে তাদের আটক করা হয়।
জানা গেছে, ব্রাজিলের খেলা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে গত ১ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে আদাবরের নবোদয় বাজার এলাকায় সালিশি বৈঠক চলাকালে বিএনপির আদাবর থানা ইউনিটের সভাপতি মো. সাদ্দাম ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার বাদশাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তাদের মধ্যে মো. আবুল বাসার বাদশার অবস্থার অবনতি হলে হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আর আহত সাদ্দাম শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।