রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই ভিক্ষুকদের উৎপাত যাত্রীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বিমানবন্দরের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ ঘিরে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিপুলসংখ্যক ভিক্ষুকের আনাগোনা দেখা যায়। প্রবাসী কিংবা বিদেশি যাত্রী দেখলেই তারা ঘিরে ধরে ভিক্ষা চান। স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশীয় মুদ্রা নয়—বিদেশি মুদ্রা, বিশেষ করে ডলারই তাদের মূল লক্ষ্য।
এ অবস্থার অবসানে শনিবার (৪ জুলাই) অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। অভিযানে ৮২ জনকে আটক করা হয়। এর পরদিন রবিবার বিমানবন্দরের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে ভিক্ষুকদের তেমন দেখা যায়নি। তবে রাস্তার পূর্ব পাশে রেলস্টেশনসংলগ্ন এলাকায় দু-একজনকে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
রবিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বিমানবন্দরের গোলচত্বর থেকে পশ্চিম পাশের প্রবেশমুখ পর্যন্ত ভিক্ষুকদের উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে। তবে সেখানে ভ্রাম্যমাণ চা ও পানীয় বিক্রেতাদের অবস্থান ছিল।
ভ্রাম্যমাণ চা-সিগারেট বিক্রেতা সুলাইমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখানে সব সময় অনেক ভিক্ষুক থাকে। গতকাল পুলিশ ধরার পর আজ আর দেখা যাচ্ছে না। কেউ কেউ রাস্তার ওপাশে আছে।’
তিনি বলেন, ‘দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই তারা দল বেঁধে এখানে ভিক্ষা করে।’
রাস্তার পূর্ব পাশে রেলস্টেশনসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করা কয়েকজন ভিক্ষুক জানান, শনিবার পুলিশের অভিযানের পর তারা বিমানবন্দরের মূল ফটকের দিকে যাচ্ছেন না।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে ভিক্ষুকদের এমন উপস্থিতি অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। তারা প্রবাসী ও বিদেশি যাত্রীদের ঘিরে ধরেন, যা দেশের ভাবমূর্তির জন্যও নেতিবাচক।
টাকা নয়, ডলারই চায়
স্থানীয়রা জানান, অনেক ভিক্ষুক দেশীয় টাকা নিতে অনাগ্রহী। বিদেশি যাত্রী দেখলেই তারা ডলার বা অন্য বিদেশি মুদ্রা চান। বিদেশিদের ঘিরে ধরার এ প্রবণতা দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন তারা।
সাঁড়াশি অভিযান
বিমানবন্দর এলাকা ভিক্ষুকমুক্ত করতে শনিবার ভোর ৫টা থেকে বিশেষ অভিযান চালায় বিমানবন্দর থানা পুলিশ। বিমানবন্দর গোলচত্বর, বিআরটিএ স্টেশন, বিমানবন্দর রেলস্টেশন, পুলিশ বক্সসংলগ্ন এলাকা, বিমানবন্দরের প্রবেশপথ, ভিভিআইপি ও ভিআইপি সড়কসহ আশপাশের এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিমানবন্দর থানা সূত্র জানায়, অভিযানে ৫৮ জন মাদকাসক্ত পথশিশু এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত আরও ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আটক করা হয় ৮২ জনকে।
সূত্রটি আরও জানায়, বিমানবন্দর এলাকায় ভবঘুরে, ভিক্ষুক ও মাদকাসক্তদের অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। এ লক্ষ্যে নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
আটক শিশুদের ক্ষেত্রে শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ‘শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তার’ মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম তরফদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিমানবন্দর এলাকায় কোনওভাবেই ভিক্ষুকদের অবস্থান করতে দেওয়া হবে না।’
তিনি বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শনিবার পরিচালিত অভিযানে ৮২ জনকে আটক করা হয়েছে। আজ (রবিবার) আরও ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘শিশুদের আদালতের মাধ্যমে ভবঘুরে কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। আর প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অপরাধের ধরন অনুযায়ী কেউ কারাদণ্ড পাচ্ছেন, আবার কাউকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।’