মেট্রোরেলের ৪ পিলারের বিয়ারিং প্যাড বদলের সুপারিশ উঠে এলো প্রতিবেদনে

মেট্রোরেলের ক্ষতিগ্রস্ত বিয়ারিং প্যাড বদল করাসহ পিলার ও উড়ালপথের বিমে দেখা দেওয়া ফাটল মেরামত, স্টেশন ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষকে পানি থেকে সুরক্ষিত রাখা, রেললাইন পরীক্ষার আধুনিক যন্ত্র সংগ্রহ করার সুপারিশ উঠে এসেছে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে। যার মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৪২৩, ৪৪২, ৪৪৬ এবং ৪৪৮ পিলারের বিয়ারিং প্যাড বদল করতে বলা হয়েছে। 

এ বিষয়ে হাইকোর্টের দাখিল করা প্রতিবেদন থেকে বুধবার (১৫ জুলাই) এসব তথ্য জানা গেছে। 

হাইকোর্টে দাখিল করা ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে সুপারিশ বাস্তবায়ন করে অগ্রগতি জানানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।  

এর আগে ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর রাজধানীর ফার্মগেটে মেট্রো রেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে পথচারী আবুল কালামের মৃত্যু হয়। এর এক বছর আগেও একই ধরনের একটি দুর্ঘটনা ঘটে। ওই দুই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় হাইকোর্টে পৃথক তিনটি রিট দায়ের করা হয়। 

রিটের শুনানি নিয়ে একই বছরের ২৯ অক্টোবর উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে পুরো মেট্রোরেল প্রকল্পের কাঠামোগত (সব লাইন ও পিলার) সক্ষমতা ও নিরাপত্তা নিরীক্ষা বিষয়ে বিস্তৃত তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। 

রিটকারী পক্ষের একজন আইনজীবী তানভীর আহমেদ বলেন, “হাইকোর্টের নির্দেশে গঠন করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন গত সপ্তাহে দাখিল করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে তিন ধরনের সুপারিশ করা হয়েছে। একটি শর্টটার্ম, যা ৩০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।” এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি করণীয় এবং পদ্ধতিগত করণীয় বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। 

হাইকোর্ট প্রতিবেদন অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে করা সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানানোর আদেশ দিয়েছেন। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব পিলারে ত্রুটি ধরা পড়েছে সেখানে নিয়মিত ফাটল ও দেবে যাওয়ার অবস্থা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে সব ক্ষতিগ্রস্ত বিয়ারিং প্যাড দ্রুত পরিবর্তন করতে হবে। এছাড়া পিলার ও উড়ালপথের বিমে যেসব ফাটল রয়েছে, সেগুলোর কারণ খুঁজে বের করে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে দ্রুত মেরামত করতে হবে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমের আগে সব স্টেশন ও বৈদ্যুতিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষে যাতে পানি ঢুকতে না পারে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। বন্ধ হয়ে থাকা পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার করতে হবে এবং রেললাইন নিয়মিত পরীক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করতে হবে। যেসব ট্রেনের চাকায় ফাটল বা গুরুতর ত্রুটি পাওয়া যাবে, সেগুলো মেরামত না হওয়া পর্যন্ত চলাচল বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে যেখানে সমস্যা দেখা দিচ্ছে তা দ্রুত শনাক্ত করে সমাধান করতে হবে। ঠিকাদারের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে, যাতে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া যায়।