রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের এফডিসির পুরোনো গেটসংলগ্ন এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী সেলিম হত্যা মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-২। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মকবুল ওরফে মুকুল সোহাগ (২৭) এবং মিজানুর রহমান মিজান (৩৯)।
র্যাব জানিয়েছে, ভাঙারি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেন ও অন্যান্য বিরোধের জেরেই সেলিমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলায় র্যাব-২ ব্যাটালিয়ন সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এসব তথ্য জানান কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাঈদ মাহমুদ।
তিনি বলেন, গত রবিবার (১৯ জুলাই) বিকালে এফডিসির পুরোনো গেটের পাশে আর্থিক লেনদেন-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে একদল দুর্বৃত্ত আম কাটার ধারালো ছুরি দিয়ে সেলিমকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রেখা বেগম সোমবার (২০ জুলাই) তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
র্যাব কর্মকর্তা জানান, মামলার পর গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোরে কারওয়ান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় মিজানের কাছ থেকে নিহত সেলিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, এজাহারভুক্ত আরেক আসামি রতনের নির্দেশে গ্রেফতাররা সেলিমের ওপর হামলা চালিয়েছিল। ভাঙারি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেন ও অন্যান্য বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত।
র্যাব জানায়, গ্রেফতার মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে দস্যুতা, ডাকাতির প্রস্তুতি, মাদক ও ভেজাল ওষুধ-সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। ভেজাল ওষুধের একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও আছে।
অপরদিকে, প্রধান আসামি মকবুল ওরফে মুকুলের বিরুদ্ধে মাদক, দস্যুতার চেষ্টা এবং বিভিন্ন অপরাধে সহায়তার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।