রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ঘুষ নিয়ে রোগীদের সিরিয়াল ভেঙে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে টহল ডিউটিতে নিয়োজিত এক আনসার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ‘আনসার সদস্যকে ঘুষ দিলেই মিলছে ভিআইপি সুবিধা’ শিরোনামের একটি অভিযোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী তাৎক্ষণিক তদন্ত ও অনুসন্ধান চালায়। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক (গণসংযোগ) মো. আশিকউজ্জামান বলেন, গত ১৮ জুলাই বিকালে ঢাকা মহানগর আনসার (ডিএমএ) পশ্চিম জোনের শেরেবাংলা নগর থানাধীন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে টহল ডিউটিতে নিয়োজিত এপিসি মো. বাহারুল ইসলামের কাছে একজন রোগীর স্বজন পরীক্ষার ফি জমা দেওয়ার সহযোগিতা চান।
মানবিক বিবেচনায় তিনি রোগীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে হাসপাতালের ক্যাশ কাউন্টারে পরীক্ষার ফি জমা দেন এবং প্রাপ্ত রসিদ সংশ্লিষ্ট রোগীর স্বজনের কাছে হস্তান্তর করেন।
পরে রোগীর স্বজনের অনুরোধে তিনি সিরিয়াল কাউন্টারে রোগীর দ্রুত সিরিয়ালের বিষয়ে অনুরোধ করেন। এ সময় রোগীর স্বজন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তাকে ১০০ টাকা বকশিশ দিলে তিনি তা গ্রহণ করেন। দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় এ ধরনের অর্থ গ্রহণ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নীতিমালা, পেশাগত আচরণবিধি ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাহিনীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট আনসার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আশিকউজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী শৃঙ্খলা, সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুর্নীতি, উৎকোচ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করে—এমন যেকোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাহিনীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। কোনো সদস্যের ব্যক্তিগত অনিয়ম বা অসদাচরণকে বাহিনী কখনোই প্রশ্রয় দেয় না; বরং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া মাত্রই দ্রুত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।