কাফরুলে যুবদল কর্মী হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী

রাজধানীর কাফরুল থানা এলাকায় যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি মিডিয়া বিভাগ।

গ্রেফতাররা হলেন, মো. নাহিদ হাসান (২১), মো. শাফিন আহমেদ (২২), মো. জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মো. আলী হোসেন (৪৫), মো. জিহাদ মোল্লা (৩০), মো. মাসুম বিল্লাহ (২৮) ও মো. আবির হাওলাদার (২৫)।

ডিবি মিরপুর বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটে কাফরুল থানাধীন ওপেক্স গার্মেন্টসের দক্ষিণ পাশে লিংক রোডের মাথায় কয়েকজন অস্ত্রধারীর ছোড়া গুলিতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ, সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মো. মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত নালাম সরদার ও মনির হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে স্থানীয় জনতা অস্ত্রসহ এক ব্যক্তিকে আটক করে কাফরুল থানায় সোপর্দ করে। পরে পুলিশ তার দেহ তল্লাশি করে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত ইউসুফের বড় ভাই বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার পরপরই ডিএমপির গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (২৫ জুলাই) গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের একটি দল মিরপুর এলাকা থেকে নাহিদ হাসান ও শাফিন আহমেদকে গ্রেফতার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরা জেলার শালিখা থানার আড়পাড়া এলাকা থেকে জিয়ারুল এবং মিরপুর এলাকা থেকে আলী হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

অন্যদিকে, কাফরুল থানা পুলিশ শরীয়তপুর থেকে জিহাদ মোল্লা এবং যশোর জেলার বাগারপাড়া এলাকা থেকে মাসুম বিল্লাহকে গ্রেফতার করে। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত আবির হাওলাদারকে গণপিটুনির পর স্থানীয়রা কাফরুল থানায় সোপর্দ করে।

ডিবি সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানিয়েছেন, মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজ প্রতিপক্ষ হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে পেশাদার খুনি ভাড়া করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন।

গত ২৯ জুন পেশাদার খুনি হাসান, জিয়ারুল, চঞ্চল, জিহাদসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজন ঢাকায় এসে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারা মিরপুর-১০ এলাকার বৈশাখী হোটেলের ৭১৪ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেন এবং পরে সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হন। এ সময় আবির হাওলাদারের কাছ থেকে হাফিজের ম্যানেজার নাহিদ দুটি পিস্তল গ্যারেজে নিয়ে আসেন। হাফিজ অস্ত্রে গুলি ভরার সময় একটি পিস্তল থেকে আকস্মিকভাবে গুলি বের হলে সেদিনের হত্যার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। পরে অভিযুক্তরা লক্ষ্যব্যক্তি হাফিজুল ইসলাম বাবুর অফিসের আশপাশে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন এবং সিএনজি হাফিজের কাছ থেকে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যান।

পরবর্তীতে ২২ জুলাই সিএনজি হাফিজের নির্দেশে তারা আবার ঢাকায় এসে মিরপুর-২ এলাকার সোনালী হোটেলের ৬০৮ নম্বর কক্ষে ওঠেন। এরপর ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সবাই আবার সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হন। সেখানে নাহিদের কাছ থেকে জিহাদ দুটি লোড করা পিস্তল নিয়ে একটি জিয়ারুল এবং অপরটি চঞ্চলের কাছে দেন। পরে জিয়ারুল, চঞ্চল, হাসান, জিহাদ, মাসুম বিল্লাহসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজন হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার অফিসের সামনে অবস্থান নেন। সিএনজি হাফিজের কর্মচারী শাফিন এবং জিয়ারুলের আত্মীয় আলী হোসেন ঘটনাস্থল রেকি, আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা এবং ঘটনার পর পুলিশের তৎপরতা ও এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সরবরাহের দায়িত্ব পালন করেন।

ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হাফিজুল ইসলাম বাবু তার কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থানকালে অপরিচিত কয়েকজনকে সন্দেহ হলে তাদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তাদের দেহ তল্লাশির চেষ্টা করলে অভিযুক্তদের একজন পিস্তল বের করে গুলি চালায়। এতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।