মারধর, হত্যাচেষ্টা ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে মডেল ও অভিনেত্রী মোছা. ইসরাত জাহান ওরফে স্নিগ্ধা চৌধুরীর করা মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূইয়া।
সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান নজরুল ইসলাম। তার পক্ষে অ্যাডভোকেট আরাফাত মোস্তফা জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে আদালত ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় মেডিকেল রিপোর্ট পর্যন্ত তার জামিনের আদেশ দেয় বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তারিকুল ইসলাম।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২৪ জুলাই বিকাল ৪টার দিকে ইমন নামে এক ব্যক্তি তাকে আশিয়ান গ্রুপের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ার জন্য ১৬ লাখ টাকায় চুক্তি করেন। ওই দিন রাত ৮টার দিকে মাকে সঙ্গে নিয়ে খিলক্ষেত থানাধীন ৩০০ ফুট এলাকায় আশিয়ান মেডিক্যাল কলেজে নজরুল ইসলাম ভূইয়ার সঙ্গে মিটিং করতে যান তিনি। বাসায় মেহমান থাকায় তার মা গাড়ি নিয়ে বাসায় ফিরে যায়। তার মা বাসায় ফিরে যাওয়ার পর নজরুল ইসলাম ভূইয়া তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তোকে আমি ৬ মাস যাবৎ খুঁজতেছি, তুই আমার টাকায় অন্য ব্যাটাকে সঙ্গে নিয়ে বাসার পর্দা কিনেছিস।’ তিনি নজরুল ইসলামকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, তিনি ভুল করছেন। তিনি যাকে ভাবছেন, সে স্নিগ্ধা নন। তখন ইমন নামের ব্যক্তিটি তাকে ইশারায় অভিযুক্ত ব্যক্তির কথা মেনে নিতে বলেন।
এরপর নজরুল ইসলাম ভূইয়া একটি শর্টগান বের করে তাকে গুলি করার হুমকি দেন। তার হাত-পা বেঁধে সোফার উপর ফেলে দেয় এবং গলা চেপে ধরে। লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৫০-৬০টি আঘাত করেন। একপর্যায়ে তাকে চুল ধরে টেনেহিঁচড়ে মেঝেতে ফেলে দেয়।
মামলায় আরও বলা হয়, নজরুল ইসলাম তার পিএসকে দিয়ে জোর করে কফি খাওয়াতে চায়। তিনি কফি খেতে অস্বীকৃতি জানালে মুখের ওপর গরম কফি ফেলে দেয়। এরপর নজরুল ইসলাম কাঁচি হাতে নিয়ে তার চেহারা নষ্ট করার হুমকি দেন। স্নিগ্ধা এমনটা করার কারণ জানতে চান। তখন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তুই জেবা টাকিয়া।’ স্নিগ্ধা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন তিনি জেবা টাকিয়া না। কিন্তু তিনি কোনোভাবে সেটা বুঝতে চান না। তাকে মারধর করে এবং বলে, ‘তুই দেড় কোটি টাকা নিয়ে অন্য পুরুষের সঙ্গে সংসার করছিস।’ তাকে দুই ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় আঘাত করে, লাথি দিয়ে সোফা থেকে নিচে ফেলে দেয়। তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক মদের সঙ্গে ওষুধ জাতীয় কিছু মিশিয়ে পান করানো হয়। পরে অভিযুক্ত অন্য কক্ষে গেলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভবনের প্রথম তলার বারান্দা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে বাসায় ফেরেন স্নিগ্ধা।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার পর একদিন অচেতন ছিলেন তিনি। ২৬ জুলাই কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন। পরে স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযোগ দায়ের করেন।